kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

তিন দিনের টেক্সটাইল প্রদর্শনীতে অংশ নেবে বিশ্বের ১২০ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০২২ ১৭:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন দিনের টেক্সটাইল প্রদর্শনীতে অংশ নেবে বিশ্বের ১২০ প্রতিষ্ঠান

সাউথ এশিয়ার বৃহত্তম আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল খাতের প্রদর্শনী ‘ইনটেক্স সাউথ এশিয়া’। নবমবারের মতো এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শুরু হয়েছে। এর উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

বিজ্ঞাপন

এ সময় ভারতের বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিংহ উপস্থিত ছিলেন। এই ইনটেক্সের আয়োজক ওয়ার্লডেক্স ইন্ডিয়া এক্সিবিশন অ্যান্ড প্রমোশন প্রাইভেট লিমিটেড।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আশার কথা হলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প দিন দিন সমৃদ্ধি লাভ করছে। সর্বোচ্চ গুণগতমান বিচারে ইতিমধ্যে দেশের টেক্সটাইল প্রডাক্ট আন্তর্জাতিকভাবেও সমাদৃত। তাই এ শিল্পটির ওপর সরকারের সুনজর আছে। এই শিল্পটির উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পলিসি গ্রহণ করেছে।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বস্ত্রশিল্পের অবদান তুলে ধরে বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের দেশ খুব কম সময়েই টেক্সটাইল শিল্পে উন্নয়ন ঘটিয়েছে। যা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার জন্য ইতিবাচক। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ বস্ত্রশিল্পের রপ্তানি অর্জন ৩২ বিলিয়ন ডলার। '

ইনটেক্স প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী আরো বলেন, এমন প্রদর্শনীর গুরুত্ব অনেক। এই প্রদর্শনীর ফলে বাংলাদেশের প্যাশন ও ফ্যাশন ভিন্ন ভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। যা বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বও করছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। আর ইনটেক্স সাউথ এশিয়া বাংলাদেশ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশের বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নের দ্বার আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। এতে বাংলাদেশের বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাউথ এশিয়ার বস্ত্র ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের একটি সুসম্পর্ক তৈরি হলো। যা দেশের বস্ত্রশিল্পের জন্য একটি বড় আনন্দের সংবাদ। এ ছাড়া দেশের বিনিয়োগ পলিসি শিল্পবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার যে বিনিয়োগ পলিসি প্রণয়ন করেছে তা শতভাগ শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে আই হোসেন, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ওয়ার্লডেক্স ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ ভগত ও পরিচালক আরতি ভগত। উদ্বোধনের পর গোলাম দস্তগীর গাজীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

‘ইনটেক্স সাউথ এশিয়া’র আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনী ১৬ জুন শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৮ জুন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এতে বাংলাদেশ, ভারত, কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের প্রায় ১২০টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের জন্য সর্বশেষ অফার প্রদর্শন করবে।

আয়োজকরা আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বেই টেক্সটাইল খাতে এক বিশ্বস্ত নাম। মহামারির দুঃসময়েও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০২১ সাল থেকেই ক্রমবর্ধমান হারে কাজের আদেশ পাচ্ছে বৈদেশিক ক্রেতাদের কাছ থেকে। নতুন অনেক উদ্যোক্তাই এই খাতে বিনিয়োগ করার জন্য এগিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় সরাসরি ক্রেতা ও সরবরাহকারী আগের লেনদেনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন। আর ‘ইনটেক্স সাউথ এশিয়ার’ লক্ষ্য হলো ক্রেতাদের ব্যক্তিগতভাবে ব্যাবসায়িক মিটিংয়ে যুক্ত করে ব্যক্তিগতভাবে সরবরাহকারীদরে সাথে সংযোগ স্থাপনের আগ্রহকে পুনরুজ্জীবিত করা।

আয়োজকরা আশা করেন ‘ইনটক্সে সাউথ এশিয়া’ উদ্ভাবনী এবং চাহিদামতো পোশাক, ফাইবার ও সুতা, পোশাকশিল্পের জন্য আনুষঙ্গিক সফটওয়্যর ও ইআরপি সলিউশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা পূরণে সহায়তার নতুন দ্বার উন্মুক্ত করবে।

ইনটেক্স সাউথ এশিয়ার আয়োজক ওয়ার্লডেক্স ইন্ডিয়ার পরিচালক আরতি ভগত বলেন, 'এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের জন্য তার বৈশ্বিক বাজারে অংশীদারত্ব বাড়াবে। পাশাপাশি ফ্যাশনেবল এবং সাশ্রয়ী পোশাকের জন্য একটি সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে খ্যাতি জোরদার করার সুযোগ তৈরি করবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের টেক্সটাইল এবং পোশাক শিল্পের বৃদ্ধি ও বিকাশে দৃঢ়ভাবে সহায়তা করবে। '

করোনা মহামারির পর আবারও সরাসরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে চাঙ্গা করতে টেক্সটাইল খাতের বৃহৎ এই প্রদর্শনীর আয়োজন।



সাতদিনের সেরা