kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

টাকার দাম আরেক দফা কমল

ব্যাংকে একদরে ডলার লেনদেন আজ থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ মে, ২০২২ ০৩:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংকে একদরে ডলার লেনদেন আজ থেকে

প্রতীকী ছবি

ডলারের বিপরীতে টাকার মান আবার কমল। এবার একবারেই এক টাকা ১০ পয়সা কমিয়ে আন্ত ব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বিলস ফর কালেকশন (বিসি) সেলিং রেট করা হয়েছে ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা।

আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করার সময় ব্যাংকগুলো এই হার অনুসরণ করবে।

বিজ্ঞাপন

আর এই দুই রেটের সমন্বয় করে একচেঞ্জ হাউসগুলো ডলার বিক্রি করবে।

চাহিদার কারণে ঊর্ধ্বমুখী ডলারের দামের অস্থিরতা কমাতে বেশ কিছুদিন থেকেই টাকার মান অবমূল্যায়ন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি মে মাসে চতুর্থ দফায় ডলারের দাম বাড়ানো হলো। তিন সপ্তাহেই ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ২.৫৫ শতাংশ। আর চলতি বছর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমল সাতবার।

এদিকে নীতি সুদহারও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করতে হলে এখন ব্যাংকগুলোকে বাড়তি সুদ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম গতকাল রবিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আন্ত ব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৯ টাকা এবং বিসি সেলিং রেট ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস বাংলাদেশের (এবিবি) প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডলারের আন্ত ব্যাংক দর ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা থাকলেও গত কয়েক দিনে অনেক ব্যাংক প্রবাসী ও রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত দরে ডলার কিনেছে। আর আমদানিকারকদের কাছে তা বিক্রি করেছে ৯৭ টাকা পর্যন্ত দরে। এ ছাড়া খোলাবাজারে ডলারের দর উঠে গেছে ৯৮ থেকে ৯৯ টাকায়। হঠাৎ করে এভাবে ডলারের দর বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক পরিদর্শনে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টিম। পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে।

এর আগের দফায় গত ২৩ মে চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো ডলারের বিপরীতে টাকার দর ৪০ পয়সা কমিয়ে আন্ত ব্যাংক লেনদেনে নির্ধারণ করা হয় ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা, যা গতকাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবে ব্যাংকগুলো এ দর মানছিল না। ডলারের সংকট কাটাতে গত বৃহস্পতিবার এবিবি ও বাফেদার সঙ্গে বৈঠকও করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে আন্ত ব্যাংকের পাশাপাশি খোলাবাজারেও বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ছে ডলারের দর, যা গত ১৭ মে ১০২ টাকায় উঠেছিল। তবে কয়েক দিন ধরে এ দর কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, সোমবার (আজ) থেকে আন্ত ব্যাংক লেনদেন ৮৯ টাকার হারটি কার্যকর হবে। এ ছাড়া আমদানি ও রপ্তানি বিল সমন্বয়ে বিসি হার দর করা হয়েছে ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা।

কভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে চাহিদা বাড়ায় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বেড়ে যায়। তাতে ডলারের চাহিদাও বাড়তে থাকে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের মুদ্রা টাকাও ডলারের বিপরীতে দর হারাতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ডলার সাশ্রয় করতে আমদানি নিরুৎসাহ করার উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারও ব্যয় সংকোচন এবং ডলারের ওপর চাপ কমাতে অতি জরুরি প্রকল্প ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে অর্থায়নে সতর্কতা অবলম্বনের পদক্ষেপ ঘোষণা করে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বিদেশভ্রমণও সীমিত করা হয়েছে।

বাড়ল ব্যাংক রেট

নীতিনির্ধারণী সুদের হার ‘ব্যাংক রেট’ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘রেপো সুদ হার’ ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে বিদ্যমান রেপো সুদহার ৪.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে। তবে রিভার্স রেপো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ২৯ জুলাই নীতি সুদহার কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।



সাতদিনের সেরা