kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

সিএসইতে ‘যোগ্য’ এমডি মিলছে না

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৬ মে, ২০২২ ১৬:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিএসইতে ‘যোগ্য’ এমডি মিলছে না

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) জন্য আট মাস ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ড। তবে এই সময়ে তিন দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও যোগ্য এমডির সন্ধান পায়নি। সিএসই বোর্ডের দাবি, যোগ্যরা ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামমুখী হতে চান না। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডের হস্তক্ষেপের কারণে আগের তিন এমডির দুজন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরিচ্যুত হওয়ায় যোগ্য অনেকে সিএসইমুখী হতে চাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

সিএসই সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুর দিকে এমডি চেয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয় সিএসই পরিচালনা বোর্ড। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত প্রার্থী না পেয়ে এরপর আরো দুই দফা বিজ্ঞাপন দিয়ে এমডি পদের জন্য যোগ্যদের কাছ থেকে আবেদন চেয়েছে। ১৫ মে এই আবেদনের শেষ সময় ছিল। এমডি নিয়োগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যে সময় বেঁধে দিয়েছে তাতে আর সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই সিএসইর হাতে। এর আগে ২০১৯ সালে তিন দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রায় আট মাস অপেক্ষার পর এমডি খুঁজে পেয়েছিল সিএসই। তবে সেই এমডিকে নিয়োগের ১৯ মাস পর বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে চাকরিচ্যুত করে সিএসই বোর্ড।

জানতে চাইলে মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি (এনআরসি) প্রধান এস এম আবু তৈয়ব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমডি পদের জন্য শত শত আবেদন জমা পড়েছে, কিন্তু উপযুক্ত ডাইনামিক ক্যান্ডিডেট পাচ্ছি না। এর মধ্যে বেশির ভাগ পদের গুরুত্ব কিংবা যোগ্যতা না দেখেই আবেদন করেছেন। আবার আমাদের চাহিদা অনুযায়ী খুব বেশি সিভি পাইনি। এর পরও যোগ্যতা বিবেচনায় পাঁচটি আবেদন শর্টলিস্ট করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। ’

সিএসইর জন্য কেমন এমডি চান—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমডির মূল চ্যালেঞ্জ সিএসইর ব্যবসা বাড়ানো। একজন ডাইনামিক এমডি, যিনি সিএসইর ব্যবসা বাড়ানোর জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। একই সঙ্গে পলিসি লেভেলেও কাজ করার যোগ্যতা রাখেন। সিএসইর লেনদেন না বাড়ার পেছনের সমস্যা চিহ্নিত করে সেটা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। যেটা আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা পারেননি। ’ তবে যে যোগ্যতার এমডি চান তাঁদের চট্টগ্রামে আসতে অনীহা বলে জানালেন সিএসইর স্বাধীন এই পরিচালক।

বিএসইসি স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে ডিমিউচুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে পৃথককরণ) করলেও সিএসই বোর্ড ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয় না বলে বরাবরই অভিযোগ করেছেন সিএসইর আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। ডিমিউচুয়ালাইজেশন হওয়ার পর সিএসইর প্রথম এমডি প্রয়াত ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন, সাইফুর রহমান মজুমদার এবং সর্বশেষ চাকরিচ্যুত এমডি মামুন-উর-রশিদ একই অভিযোগ করেন। সে সময় চাকরিচ্যুতির প্রসঙ্গে মামুন-উর-রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এমডি সিএসইতে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। কারণ ডিমিউচুয়ালাইজেশনের কথা বলা হলেও সিএসইতে যারা সদস্য তারাই মালিক। এখন বলা হচ্ছে, আমি ডাইনামিক ছিলাম না, দেশের প্রথম সারির একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি ছিলাম। তাহলে আমি ডাইনামিক না কিভাবে?’ অভিযোগ প্রসঙ্গে এস এম আবু তৈয়বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আগের কথা জানি না, তবে গত তিন বছরের দেখা সিএসই বোর্ডের চেয়ে লিবারেল বোর্ড আমি দেখিনি। যদি সব ব্যাপারে বোর্ড নাক গলাত তাহলে আমরা যোগ্য এমডি খুঁজছি কেন? নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তিনি এসব কথা বলছেন। ’

ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এই অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক প্রভাবশালী কমিশনার অধ্যাপক হেলাল নিজামী।

তিনি বলেন, ‘হস্তক্ষেপের বিষয়টি এমডি কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তার ওপরও নির্ভর করে। কমিশনে থাকতে দেখেছি একজন এমডি শেয়ারহোল্ডার পরিচালকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। আমরা সেই এমডিকে সতর্কও করেছিলাম। তাঁদেরও ব্যর্থতা আছে। ’

স্টক এক্সচেঞ্জে ডিমিউচুয়ালাইজেশন বা মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে পৃথককরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন কমিশনের সময়। সেই কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার অধ্যাপক হেলাল নিজামী ডিমিউচুয়ালাইজেশন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সময়ের দাবি অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে হয়েছে। কিন্তু আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কিছু বিষয় দৃশ্যমান হয়েছে। যেমন—স্বতন্ত্র পরিচালকদের কাজ আরো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত। তাঁদের আরো সক্রিয় হতে হবে। এ জন্য আইনে সুযোগ না থাকলে বিধিমালায় পরিবর্তন হতে পারে। ’



সাতদিনের সেরা