kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

৯ মাসে ১৩৬৫১ কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ

বিদেশি ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বেড়েছে

তামজিদ হাসান তুরাগ   

৯ মে, ২০২২ ০৯:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশি ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বেড়েছে

ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বেড়েছে বাংলাদেশের। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২১-মার্চ ২০২২) ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছে এক হাজার ৫৯৫ মিলিয়ন ডলার। প্রতি ডলার ৮৬  টাকা দরে হয় ১৩ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে একই সময় এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৪৭ মিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

 

সার্বিক বিবেচনায় গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে এক হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ করা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন এই ঋণ পরিশোধ দিন দিন আরো বাড়বে। তার অন্যতম কারণ হলো, বৈদেশিক সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়ন। তাঁরা বলছেন, যদি প্রকল্প সঠিক সময়ে শেষ না করা যায় তাহলে এই বৈদেশিক ঋণ বোঝা হয়ে যাবে।

ইআরডির প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে ঋণের অর্থের মধ্যে সুদ পরিশোধ করেছে ৪১১ কোটি ৬৫ মিলিয়ন ডলার এবং মূল ঋণ পরিশোধ ৯৮৬ মিলিয়ন ডলার। তবে গত অর্থবছর একই সময় বাংলাদেশ পরিশোধ করেছিল সুদ ৪০৫ মিলিয়ন ডলার আর আসল এক হাজার ৪১ ডলার। একই সময় অনুদান এসেছে ১৮০ মিলিয়ন ডলার এবং ঋণ হিসেবে এসেছে ছয় হাজার ৬১৬ মিলিয়ন ডলার। এর আগে গত অর্থবছরের একই সময় অনুদান এসেছিল ১৪৭ মিলিয়ন ডলার এবং ঋণের অর্থ এসেছিল চার হাজার ২৩৩ মিলিয়ন ডলার।    

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণের ব্যাপারে বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে। শ্রীলঙ্কার মতো কোনো পরিস্থিতি হওয়ার আশঙ্কা এখন নেই। জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি একমুখী নয়। আমাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও বেশি। তাই শ্রীলঙ্কার মতো কোনো পরিস্থিতি হওয়ান সুযোগ নেই। ’

বেড়েছে প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড় : অর্থবছরে প্রথম আট মাস জুলাই থেকে মার্চ মাসে প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেড়েছে অর্থ ছাড়। গত অর্থবছরের তুলনায় এ সময় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় বেড়েছে এক হাজার ৮১৬ মিলিয়ন ডলার। মোট ছাড় হয়েছে ছয় হাজার ৭৯৬ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছর একই সময় ছাড় হয়েছিল চার হাজার ৩৮০ মিলিয়ন ডলার।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ৯ মাসের হিসাবে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অর্থ ছাড়ে শীর্ষে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মোট এক হাজার ৯০৯ মিলিয়ন ডলার এসেছে এডিবির কাছ থেকে। এডিবির প্রতিশ্রুতি ছিল এক হাজার ১১৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থ ছাড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান। দেশটি ছাড় করেছে এক হাজার ৫৭৭ মিলিয়ন ডলার। এর পরই রয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আইডিএ। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রায় ৮৩৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করা হয়েছে। ৯০১ মিলিয়ন ডলার ছাড় করে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়া চীন ৪৯৭ মিলিয়ন ডলার, এআইআইবি ২৮৩ মিলিয়ন ডলার, ভারত ১২০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। অন্যান্য সংস্থা ও দেশগুলো দিয়েছে ৪৭২ মিলিয়ন ডলার।

এদিকে চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার ৪৩১.০৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৮৮২ মিলিয়ন ডলার। ওই সময় প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৯৬৩ মিলিয়ন ডলার।

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে চীন। ৯ মাসে এক হাজার ১২৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। এরপর রয়েছে এডিবি। সংস্থার কাছ থেকে এক হাজার ১১৯ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আইডিএ ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার, এআইআইবি ৫১৫ মিলিয়ন ডলার, জাপান ৩৮০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ বাড়ছে। এর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধও বাড়ছে। তবে আমাদের বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বেশি জোর দিতে হবে। তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, যদি সময়মতো এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না করা যায়, তাহলে প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই আমাদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আর তখন এই বৈদেশিক ঋণগুলো আমাদের অনেক পীড়া দেবে। ’



সাতদিনের সেরা