দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে চাঙা করতে বাজেটে নানা ধরনের সুবিধা দিয়েছে সরকার। করহার না বাড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে করজাল বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন খাতের মতো সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে স্থানীয়ভাবে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে শুল্কছাড় দিলেও এর সুফল পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। কাস্টমস প্রসিডিউর কোড (সিপিসি) কার্যকর হতে দেরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এসআরও’র মাধ্যমে দেওয়া সুবিধা বাস্তবে পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছেন তারা। আবেদন করার পরও সিপিসি পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে বন্দরে কাঁচামাল আটকে থাকায় ডেমারেজ, গুদাম ভাড়া ও ব্যাংক সুদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে নতুন শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন শুরু অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। এই সুবিধা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
চলতি বছরের ৮ জুন কার্যকর হওয়া এসআরও অনুযায়ী, লিথিয়াম-আয়ন, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে ব্যবহৃত নির্ধারিত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ কম শুল্কে আমদানির সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধা পেতে প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত উৎপাদনকারী হতে হবে। এরপর এনবিআর সিপিসি বরাদ্দ দিলে শুল্ক সুবিধা কার্যকর হবে।
লিও আইসিটি কেবল পিএলসির বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগ শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু এসআরও জারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকার পরও এ সুবিধা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হলে বিনিয়োগের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিপিসি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, এসআরও বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সম্ভাবনাময় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি না হলে সরকারের নীতিগত প্রণোদনার সুফলও পাওয়া যাবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘এসআরও অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের নথিপত্র দাখিল করতে অনেক সময় আমদানিকারকদের কিছুটা বিলম্ব হয়। সে কারণেই সিপিসি ইস্যু করতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার পরই সিপিসি দেয়।’







