kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ইআরএফ’র ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা

প্রণোদনা সুবিধা বেশী ভোগ করেছে সংগঠিত গোষ্ঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ১৮:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রণোদনা সুবিধা বেশী ভোগ করেছে সংগঠিত গোষ্ঠি

কভিড মহামারিতে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষায় সরকারের দেওয়া করোনার প্যাকেজের বাস্তবায়ন সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চেয়ে সংগঠিত গোষ্ঠি ও প্রভাবশালীরা রপ্তানি ও অরপ্তানি খাতের নীতি ও সুবিধা বেশী ভোগ করেছে।

আজ শনিবার ‘কভিড-১৯ প্রণোদনা প্যাকেজ : প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন মতামত দিয়েছেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

বিজ্ঞাপন

এশিয়া ফাউন্ডেশন, ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও গবেষণা সংস্থা র‌্যাপিড যৌথভাবে অনলাইনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, করোনার প্যাকেজের বাস্তবায়ন সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এই ধরনের প্রণোদনা বাস্তবায়নে এর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার।

করোনার সময়ে সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনেক উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কিছু কাজের অগ্রগতি আরো ভালো হতে পারত। তবে দেশের তথ্য উপাত্তের অভাব ও ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। এর মান নিয়েও অনেক প্রশ্ন আাছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মূল প্রবন্ধে ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, প্রণোদনা খরচের বণ্টন সামাজিক সুরক্ষা খাতে যথেষ্ট অগ্রাধিকার পায়নি। খাত ওয়ারি সাহায্য নিরুপনে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব আছে। সংগঠিত গোষ্ঠি ও প্রভাবশালীরা রপ্তানি ও অরপ্তানি খাতের নীতি ও সুবিধা ভোগ করছে।

তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের যেসব জায়গায় সুবিধা দরকার ছিল তার অনেক ক্ষেত্রেই পৌঁছায়নি। এর অন্যতম কারণ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। ফলে সংকট মোকাবেলার উদ্যোগ কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে সংস্কার আনা দরকার।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমিত রোগী সনাক্ত হয়। এর কিছু দিন পরেই ২৫ মার্চ সরকার রপ্তানি খাতের কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য মাত্র ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জে ৫ হাজার টাকার একটি তহবিল ঘোষণা করে। করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতের জন্য সরকার পর্যায়ক্রমে ২৮টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব প্যাকেজে এক লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা জড়িত, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ।  

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য কাওসার আহমেদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। বর্তমানে যেসব সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি রয়েছে সেগুলো যথার্থভাবে পরিচালিত হচ্ছে।  

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সকলের জন্য পেনশন, কর্মস্থলে দুর্ঘটনার জন্য বীমা ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।

ইস্টার্ন ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের বড় অংশ ব্যাংক খাতের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি প্রশমনে একটি উদ্যোগ থাকা দরকার। নতুবা প্রাতিষ্ঠানিক যে আগ্রহ সেটা কমে যেতে পারে।

ইউএনডিপি কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, শুধু সক্ষমতা বাড়ালে হবে না, প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। যাতে ছোট, অতি ছোটদের পাশে দাঁড়ানো যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসূফ বলেন, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কারণে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সহজ হয়েছে। তবে এই প্যাকেজগুলোকে আরও কার্যকর করা যেতো এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।



সাতদিনের সেরা