kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

আবারও ক্ষতির শঙ্কায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

►দেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫% ► করোনায় এ খাতের উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

সজীব আহমেদ   

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবারও ক্ষতির শঙ্কায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

বিউটি পার্লার নিয়ে ছয় বছর ধরে কাজ করছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শিরিন সুলতানা। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম নিউ মডার্ন বিউটি পার্লার। রাজধানীর দক্ষিণ কুড়িল এলাকায় এই পার্লারটি করোনার প্রথম ধাক্কায় ক্ষতির মুখে পড়তে পড়তে একপর্যায়ে তিনি ব্যবসা ছেড়ে দেন। পরে ঘুরে দাঁড়াতে বাড্ডার মহিলা সমিতি থেকে আট লাখ টানা লোন এনে আবার নতুন করে পার্লার ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রতি মাসে কিস্তি ১৪ হাজার টাকা, সঙ্গে ঘরভাড়া ও পার্লারের দুই কর্মীর বেতন মিলিয়ে প্রতি মাসে পার্লারের পেছনে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার কারণে ভালোই চলছিল তাঁর এই ব্যবসা। কিন্তু এখন দেশে আবারও উদ্বেগজনক হারে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চলতি বছরের শুরু থেকেই পার্লারে কাজ কমে গেছে। এ কারণে আবার ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে নিউ মডার্ন বিউটি পার্লারে গিয়ে দেখা যায়, পার্লারের দুই কর্মী কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন। তাঁরা বলছেন, গত মাসে দিনে ১০টি কাজ করতে পারতেন, এখন দিনে চার-পাঁচটির বেশি করতে পারছেন না। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে অনুষ্ঠান আয়োজন কমে যাচ্ছে। এতে মানুষজন এখন কম আসছে এবং অনেকে করোনার ভয়ে পার্লারে আসা কমিয়ে দিয়েছে বলেও কর্মীরা জানান।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শিরিন সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে দুই দফায় কঠোর লকডাউনে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে পার্লার ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছিলাম। করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আট লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করি এই ব্যবসা। টানা ছয়-সাত মাস ভালোই চলেছিল। মাসে মাসে ঋণের কিস্তির টাকা, ঘরভাড়া ও কর্মীদের বেতন দিয়ে কিছু আয়ও করা গেছে। এখন নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আমাদের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। ’

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাহাদ হোসেন। তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করেন। দেশে দুই দফায় করোনার ধাক্কায় পুঁজি যা ছিল শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে করোনার এই দুই ধাক্কা কাটিয়ে ফের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। উপার্জন ভালো থাকায় পরিবার নিয়ে সুখে দিন কাটছিল। কিন্তু এখন নতুন করে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনিও।

রাহাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বাড়লে আমরা যারা ফুটপাতের বিক্রেতা, তাদের ব্যবসা সবার আগে বন্ধ হয়ে যায়। করোনার কারণে যখন দুইবার সব কিছু বন্ধ করে দিল সরকার, তখন লম্বা এই সময়ে অনেক আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাই। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করি। এখন নতুন করে আবার করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, আগের ঋণও পরিশোধ হয়নি। সরকার যদি আগের মতো সব কিছু বন্ধের ঘোষণা দেয়, তাহলে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। ’

শুধু এমন তিনটি খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নন, নতুন করে আবার শুরু হওয়া এই করোনার থাবায় ভয়াবহ সংকটে পড়ছেন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাখ লাখ উদ্যোক্তা। জানা যায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) একটি দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এসএমই খাতের অবদান ২৫ শতাংশের মতো। করোনায় এ খাতের উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ খাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেয়া হলেও তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এক মতবিনিময়সভায় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশে যেসব খাতের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল সে খাতগুলোই এখনো প্রণোদনার ঋণ পায়নি। মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। কিন্তু অন্যান্য প্রণোদনা তহবিলের অর্থ প্রায় শতভাগ ছাড় হলেও এসএমই প্রণোদনার বড় অংশ বিতরণ হয়নি। ’



সাতদিনের সেরা