kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

দক্ষ জনবল তৈরিতে ছয় জেলায় হবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র

►বরিশাল, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, রংপুর, জামালপুর ও যশোরে হবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো ►বিটাকের এই প্রকল্প প্রস্তাবনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০৯:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দক্ষ জনবল তৈরিতে ছয় জেলায় হবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র

দেশের কর্মক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। আর সেই চাহিদা পূরণ করতে সারা দেশে নতুন করে আরো ছয়টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে প্রকল্প প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। প্রকল্পটি পাস হলে নতুন করে বরিশাল, গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, রংপুর, জামালপুর ও যশোরে স্থাপিত হবে এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো। আজ জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে উঠছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওয়াতাধীন এই প্রকল্প।

বিজ্ঞাপন

এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৩২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অনুমোদন পেলে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বিটাক।

বিটাক বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় শিল্পের জন্য কারিগরি জনবল সৃষ্টি, প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুব নারী ও পুরুষ প্রশিক্ষাণার্থীদের জন্য আধুনিক সুবিধার কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় করা;  আবাসিক ভবন, অনাবাসিক ভবন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা; প্রকৌশল ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়; আসবাব, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক অফিস সরঞ্জাম, দুটি মোটরযান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ উপকরণ ক্রয়; এ ছাড়া হোস্টেলে ব্যবহারের জন্য দ্রব্যাদি যেমন—ক্রোকারিজ, বিছানাপত্র ইত্যাদি ক্রয়।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরো বলা হয়, বিটাকের ছয়টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে সমান অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে ছয় হাজার ১৪৪ জন নারী ও ছয় হাজার ১৪৪ জন পুরুষ, অর্থাৎ সর্বমোট ১২ হাজার ২৮৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ওয়ার্কশপ নির্মাণের মাধ্যমে ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ ও আমদানি বিকল্প খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচটি বিটাক প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র প্রতিনিয়ত দক্ষ জনবল, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা দিয়ে আসছে। আমরা চাচ্ছি এই দক্ষ জনবল গড়ার কাজটি সারা দেশে ছড়িয়ে যাক; যেহেতু ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধিশালী দেশে রূপান্তরের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন একান্তই প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘দক্ষ জনবল যে শুধু এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে এমন নয়, এর পাশাপাশি এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ শেষে যে কেউ উদ্যোক্তা হতে পারবেন। ’

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ৭ জুন অনুষ্ঠিত হয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে নারী হোস্টেলসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সাতটি ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। বর্তমানে বিটাকের পাঁচটি কেন্দ্র ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, খুলনা ও বগুড়ায় বিদ্যমান আছে।

আজ একনেকে উঠছে যেসব প্রকল্প : নেত্রকোনা-বিশিউড়া-ঈশ্বরগঞ্জ সড়কের উন্নয়ন (প্রথম সংশোধনী), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণ (প্রথম সংশোধনী), শেখ হাসিনা সেনানিবাস বরিশাল স্থাপন (প্রথম সংশোধনী), ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলে কৃষির উন্নয়ন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুরের অ্যাপ্রোচ সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প, বন্যা ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প, ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ প্লান্ট স্থাপন, ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ প্রকল্প।



সাতদিনের সেরা