kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সবজির দামই একটু কম

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবজির দামই একটু কম

চালের পর এবার বাজারে আরো বেড়েছে ডালের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডালের দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অবশ্য অনেক দোকানে এখনো আগে কেনা ডাল ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির বাজারদরের তালিকা অনুযায়ী, খুচরা দোকানে বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা ছিল।

বিজ্ঞাপন

সরকারি সংস্থাটির হিসাবে এই মানের ডালের দাম এক বছরে বেড়েছে ৫২ শতাংশ। গত বছর এ সময় দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

তবে মাঝারি দানার মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা কমে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে আগের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

সপ্তাহ দুয়েক আগে কেজিপ্রতি দুই থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি শফি মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ডালের দাম বাড়ছে গত ছয় মাস ধরে। তবে সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ করে এক সঙ্গে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের বৃষ্টিতে ডালের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এতে যাদের কাছে ডাল ছিল তারা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। কারণ আগামী মৌসুমের ডাল উঠতে কিছুটা দেরি হবে। এ ছাড়া বড় আমদানিকারকরাও দাম বাড়িয়েছেন।

তেলের দাম সরকারিভাবে না বাড়লেও ছাড় তুলে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ১৬০ টাকা লিটারের কমে কোনো বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সপ্তাহখানেক আগে পর্যন্ত ১৫৩ থেকে ১৫৫ টাকায় পাওয়া যেত। যদিও সব শেষ নির্ধারিত দাম ১৬০ টাকাই ছিল। খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে আগের দাম ১৫৩ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, আগে ডিলারদের কাছ থেকে কমে কেনা যেত, তাই কমে বিক্রি করা গেছে।

তবে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। কিছু অপ্রচলিত সবজিও বাজারে এখন নিয়মিত সরবরাহ হচ্ছে। ফলে সবজির দাম তুলনামূক কম রয়েছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ মসলা পণ্যের দামও আগের মতোই কমে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মুগদাসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির দাম ৪০ টাকার মধ্যে। বাজারে কয়েক মানের টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহের তুলনায় পাঁচ থেকে ১০ টাকা কম। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি আকার অনুসারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা প্রতিটি। ব্রুকলির দামও প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

গাজর, শালগম ও মুলা ৩৫ থেকে ৪০, আলু ২০, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৫০ থেকে ৬০, শিম ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। তবে ঢেঁড়স ও বরবটি গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজি হওয়ায় দাম এখন ১০০ টাকা কেজি।

বাজারে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আদা ৭০ থেকে ১২০ টাকা,  রসুন ৬০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

কিছুটা কমে ব্রয়লার এখন ১৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, সোনালি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। ডিম আগের মতোই ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা হালি।  

মাছের দামে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। চাষের মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে বাড়ছে প্রাকৃতিক জলাশয়ে বেড়ে ওঠা মাছের দাম। এক কেজির কম ওজনের ইলিশ হাজার টাকা কেজি। আরেকটু ছোটগুলো ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। রুই ও কাতল ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৩০, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।

আগের সপ্তাহে বিলের টাকি মাছ কেনা গেছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়, গতকাল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দাম চাইলেন মুগদা বাজারের বিক্রেতারা। কাচকি ও পুঁটির দাম ৪০০ টাকা, বাইম ৫০০, শোল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব মাছ কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা কম ছিল। বিক্রেতারা বলছেন, বিলের পানি ধীরে ধীরে কমে আসায় মাছও কমে আসছে। ফলে সরবরাহ কমছে। চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা