kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

প্রাণের চল্লিশ বছর পূর্তি

তিন খাতে ১৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জানুয়ারি, ২০২২ ১৬:৫৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিন খাতে ১৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

দেশের স্বনামধন্য শিল্প গোষ্ঠী প্রাণ আরএলএলের প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তিতে শিল্পায়নে বড়বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বছরের শুরু থেকেই তেল-আটা, ময়দা, লবণ, স্মার্টফোন, হ্যান্ডফোন, ব্যাটারি, পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে নতুন করে ১৭০০ কোটিটাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কম্পানিটি। এতে নতুন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে তারা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারেরএকটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এই সব তথ্য জানান প্রাণ আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নতুন বছরে নতুন শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনারকাজে হাত দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ। এতে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকাবিনিয়োগ করা হবে যার ফলে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা জানেন আমরা প্রাণ ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়াসহ নানা দেশেপণ্য রপ্তানি করে দেশের অর্খনীতির চাকাকে সচল রাখছে। আশাকরি আমাদের এই নতুনখাতগুলোর পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে আমার দেশের অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারব।

অনুষ্ঠানে জানান হয়, এরই মধ্যে সয়াবিন বীজ প্রসেসিং ও তেল পরিশোধন, আটা, লবণ, ডাল, স্টার্চ, ফিডমিলসহ কয়েকটি পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে গাজীপুরের মুক্তারপুরে কালিগঞ্জ এগো প্রোসেসিং লিমিটেড (কেএপিএল) নামে নতুন একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির কাজকরছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। ১৮০ বিঘা আয়তনের এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এখন স্থাপনা নির্মাণ ও মেশিন বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদথেকে এ কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসতে পারে।

নরসিংদীতে অবস্থিত প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্মার্ট ও ফিচার ফোনের পাশাপাশি হেডফোন, ব্যাটারি, চার্জারসহ বিভিন্ন ধরনের মোবাইল এক্সসেসরিজ উৎপাদন করবে আরএফএল গ্রুপ। আগামী মার্চেই নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত প্রোটন ব্র্যান্ডের এসব ফোন ক্রেতাদেরহাতে আসতে পারে। এজন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

দেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়িতে এবার গার্মেন্টস কারখানা করছে প্রাণ গ্রুপ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এ কারখানার উদ্বোধন করা হতে পারে। এখানে বিভিন্ন ধরনের অন্তর্বাস ও পোলো শার্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে ২৫০০ লোকের কর্মসংস্থান হবে যেখানে গ্রামীণ নারীরা কাজের সুযোগ পাবেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এরই মধ্যে ৪০ বছর অতিক্রম করেছে। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে গ্রুপের বিভিন্ন চড়াই-উৎড়াই এর গল্পশোনান গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল। সেই সাথে তুলে ধরেন আগামীদিনের ব্যবসায়ের বিভিন্ন দিক।

দেশের উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র জনগণের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি ও কৃষিকাজে সেচের পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে টিউবওয়েল ও কৃষি সহায়ক যন্ত্রপাতি তৈরির মাধ্যমে ১৯৮১ সালেরংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড (আরএফএল) এর মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের যাত্রা শুরু। পরে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে মানোনিবেশ করে এবং ১৯৯৩ সালে নরসিংদীতে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি কারখানা স্থাপন করা হয়। এরপর প্রাণ-আরএফএল গ্রুপকে আর ফিরে থাকাতে হয়নি। ড্রিংকস, সস, জেলি, চানাচুর, চিপস, মশলা, চকলেট, বেকারি, ফ্রোজেন ফুডস, ট্রয়লেট্রিজ, দুগ্ধজাত, হাউজওয়্যার, ইলেকট্রিক ওইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে হয়ে উঠে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান।  

কামরুজ্জামান কামাল বলেন, শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। রংপুর বিসিকে ছোট একটি কারখানা দিয়ে স্বল্প বিনিয়োগ নিয়ে আমাদের পথচলা শুরু। তবে সেসময় আমাদের টিউবওয়েল ও কৃষি সহায়ক যন্ত্রপাতি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বড় ভূমিকা রাখে। পরে নরসিংদীতে ক্ষুদ্র আকারে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা চালু হলো, যেখানে আনারস প্রসেসিং করা হতো। এরপর একে একে ম্যাংগো ড্রিংক ও অন্যান্য পণ্য আসা শুরু করে। সেই প্রাণ এর ঝুড়িতে এখন অসংখ্য পণ্য যা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই‘প্রাণ’ এখন দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের প্রাণ হয়ে উঠেছে।

আগামী দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, দেশে ভোগ্য পণ্যের বিশাল বাজারের বড় অংশে রয়েছে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, ডাল, চিনি, লবণ। আপতত চিনি ছাড়া সব ধরনের ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে প্রাণগ্রুপ। এজন্য গাজীপুরের মুক্তারপুরে নতুন কারখানা হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক মাসের মধ্যে প্রোটন ব্র্যান্ডে মোবাইল উৎপাদন শুরু হবে। পাশাপাশি জুতো, গ্লাসওয়্যার ও পোল্ট্রি শিল্পখাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

কামরুজ্জামান কামাল বলেন, আমাদের গ্রুপের প্রধান লক্ষ্য ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন। আমরা এখন যতগুলো করখানা করছি সবগুলোই ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। আমরা চেষ্টা করছি শ্রমঘন শিল্পগুলো ঢাকার বাইরে স্থাপন করা। আমরা দেখেছি দেশের বেশিরভাগ গার্মেন্টস রাজধানী ও তার আশপাশের শহরগুলোতে। কিন্তু এ গার্মেন্টস আমরা উত্তরাঞ্চলে স্থাপন শুরু করেছি। আমরা আশা করছি, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এ উদ্যোগ দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে জানান হয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের ২৩টি স্থানে ৫২০ একর জমিরওপর কারখানা সম্প্রসারণ করেছে প্রাণ-আরএফএল। নিজস্ব চাহিদা পূরণের জন্য তারা১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পাউডার মিল্ক উৎপাদন শুরু হয় প্রাণের হাত ধরে। বর্তমানে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে রয়েছে প্রাণের পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম।



সাতদিনের সেরা