kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

শীর্ষ করদাতা সম্মাননা পেল ইউনিলিভার বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০১:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শীর্ষ করদাতা সম্মাননা পেল ইউনিলিভার বাংলাদেশ

দেশের অন্যতম বৃহত্তম নিত্য ব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদন এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান- ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল)-কে ২০২০-২১ অর্থবছরের অন্যতম শীর্ষ করদাতা হিসেবে পুরস্কৃত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতারের হাতে ট্যাক্স কার্ড, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জ্যেষ্ঠ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং এফবিসিসিআই- এর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শীর্ষ করদাতা হিসেবে সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

এবার নিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মতো দেশের অন্যতম শীর্ষ করদাতার স্বীকৃতি পেল ইউনিলিভার বাংলাদেশ। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ‘ফার্মাসিউটিক্যাল ও রসায়ন’ ক্যাটাগরিতে আয়কর প্রদানের মাধ্যমে রাজস্বখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রতিষ্ঠানটিকে সম্মানজনক এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 

জন্মলগ্ন থেকেই সরকারের অন্যতম বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। আয়কর, শুল্ক ও লভ্যাংশ প্রদানের মাধ্যমে জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে কম্পানিটি। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব খাতে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনিলিভার বাংলাদেশকে মোট আটবার শীর্ষ করদাতা সম্মাননা প্রদান করেছে এনবিআর। গত আট বছরে বাংলাদেশের রাজস্বখাতে ১৫ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে প্রোথিত স্বনামধন্য কম্পানি হিসেবে ইউনিলিভার তার ভোক্তাদেরকে ‘বিউটি অ্যান্ড পার্সোনাল প্রোডাক্ট’, ‘হোমকেয়ার’, ‘লন্ড্রি’সহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের সঙ্গে পরিচিত করিয়েছে এবং সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর জীবনাভ্যাস গড়ে তুলতে তাদেরকে সাহায্য করেছে। ইউনিলিভার তার পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ‘গ্রিন এনার্জি’র প্রসার এবং পানি পরিশোধন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, ২০১৪ সাল থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়া হতে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্যের (সলিড ওয়েস্ট) শতভাগ পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ‘জিরো ওয়েস্ট টু ল্যান্ডফল’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, অন্যান্য মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশন (এমএনসি) এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। 
বিগত ১১ বছরে ইউবিএল পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পানির ব্যবহার ৩৭ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। এই হ্রাসকৃত এই পানি প্রায় ৭৮ কোটি ৮০ লাখ মানুষের এক দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম! এছাড়া ইউনিলিভার বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনতেও কাজ করে যাচ্ছে এবং ২৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করেছে। বেঁচে যাওয়া এই বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ২১ লাখ পরিবার একটি পুরোদিন তাদের আলোর চাহিদা মেটাতে পারবে! একই সময়ে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা হয়েছে ২২ শতাংশ (৬০,৯২৯.২৬ মেট্রিক টন), যা ২৮.১ লাখেরও বেশি গাছ লাগানোর সমতুল্য!

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো ও তাদের স্বাস্থ্যকর জীবনাভ্যাস তৈরির মাধ্যমে ইউনিলিভারের উদ্দেশ্য-চালিত ব্র্যান্ডগুলো সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। লাইফবয় ও ফ্রেন্ডশিপ এনজিও-জাহাজের আকৃতিতে ‘ভাসমান লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের মাধ্যমে চর থেকে চরে সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। ভাসমান এই হাসপাতাল গত ১৯ বছর ধরে তাদের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ৮ লাখের বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি ৪০ হাজার সার্জারির মাধ্যমে চরের বাসিন্দাদের জীবনে সত্যিকার অর্থে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই ব্র্যান্ড ২০১১ সাল থেকে ‘হাত ধোয়া’ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে এবং ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রায় ৫২ লাখ শিশুর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। 

একইভাবে ইউনিলিভারের ওরাল কেয়ার ব্র্যান্ড ২০১০ সাল থেকে দাঁতের যত্নের বিষয়ে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দিয়ে আসছে এবং ইতিমধ্যেই ১১ লাখ শিশুর কাছে পৌঁছে গেছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৫০ লাখ তরুণ-তরুণীকে ক্ষমতায়িত করতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ সম্প্রতি ডাভ সেলফ ইস্টিম প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু করেছে।    

শীর্ষ করদাতা সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে ইউনিলিভার বাংলাদেশ (ইউবিএল) এর সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতার বলেন, 'বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে ইউনিলিভার। এ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যেন ইউনিলিভার বাংলাদেশেরই অগ্রযাত্রার গল্প। বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রকৃত পরিবর্তন নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য। আর এজন্য নানাবিধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ভোক্তাদের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা সরকার, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি। আজকের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্বখাতে ইউনিলিভারের ধারাবাহিক অবদানের-ই অকাট্য প্রমাণ। সরকার সহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আমরা আগামীতেও অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখবো এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকব।'  



সাতদিনের সেরা