kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনীকেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

বিদেশে নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ১০:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশে নতুন বাজারের সন্ধান করতে হবে

রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যম রপ্তানি বাস্কেট আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধানের জন্য বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনীকেন্দ্র’ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রপ্তানি বাস্কেট আরো বৃদ্ধি করা এবং  আমরা কোন ধরনের পণ্য কোন দেশে রপ্তানি করতে পারি সে বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ সবাইকে অনুরোধ করব আপনারাও আমাদের পণ্যের আরো বহুমুখীকরণের চেষ্টা করবেন।’

তাঁর সরকার সারা দেশে এক শটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে, সেখানে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা যাতে বিনিয়োগ করতে পারেন সে জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি। আমাদের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন, বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ করতে পারে। আমি ভবিষ্যতে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করব। তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো উন্নয়নশীল দেশ হয়ে গেছি। কাজেই আমাদের শিল্প উদ্যোক্তারা নিজের দেশে না, বিদেশে বিনিয়োগ করেও সেই পণ্য সেখানে বাজারজাত করা বা আমাদের চাহিদা মতো নিয়ে আসা—সেই সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করতে চাই এবং সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘অনেকের সন্দেহ থাকতে পারে উন্নয়নশীল দেশ হলে বোধহয় অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হব। আসলে যেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হব তার চেয়ে বেশি সুবিধা আমরা পাব। আমাদের বাণিজ্য বাড়বে, রপ্তানি বাড়বে, রপ্তানি সুবিধা পাব।’

এ সময় তিনি বাংলাদেশের পাটের জীবন রহস্য উদঘাটনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘পাট ও পাটজাত পণ্যও আমরা রপ্তানি করতে পারি।’ সে ক্ষেত্রে আমাদের মন্ত্রণালয়কে আরো বিশেষ উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এই প্রদর্শনীকেন্দ্রটি বছরব্যাপী বিভিন্ন পণ্যভিত্তিক মেলার স্থায়ী ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর এখন থেকে এখানেই স্থায়ী প্লাটফর্মে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারপ্রধান রপ্তানি বাজারে টিকে থাকার জন্য ‘নিজস্ব প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর’ ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি আমাদের ব্যবসায়ীদের বলব, যখনই আপনারা কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে কোন দেশের কী প্রয়োজন সেখানকার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উন্নতমানের পণ্য আপনাদের উৎপাদন করতে হবে। সেটা যদি করতে পারেন তাহলেই বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’ আমাদের দেশের পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ সম্ভব উল্লেখ করে আইসিটি সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতি তাঁর সরকার জোর দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল পণ্য উন্নয়ন। আর এর বাজার তৈরির প্রধান কৌশল হচ্ছে আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন এবং এতে অংশগ্রহণ করা। এই লক্ষ্যে চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় রাজউক কর্তৃক বরাদ্দ করা ২০ একর জমিতে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার তৈরি করা হয়। রাজধানীর পূর্বাচলের এই প্রদর্শনী কেন্দ্রটি দেশের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ছিল।  

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘সরকার দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা এবং রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে এরই মধ্যে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। আর রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল করতে মেলার আয়োজন এবং বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাই পূর্বাচলে নতুন শহরে ২০ একর জমির ওপর চীনের সহায়তায় এই প্রদশনী কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়।’

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ এই প্রদর্শনী কেন্দ্রটি করা হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা