kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ কমেছে

পেঁয়াজের দাম নামলেও চড়ছে চাল, ডাল, চিনিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ কমেছে

ভোজ্য তেলের মধ্যে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি চলে এক-দুই লিটারের সয়াবিনের বোতল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গোপীবাগ, খিলগাঁও, রামপুরা, মুগদাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এক-দুই লিটারের তেলের বোতল পাওয়া গেল খুব কম। অনেক দোকানে একেবারেই নেই। যে কয়টা পাওয়া গেল সবগুলোই আগের দামের। দোকানিরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পর ডিলার প্রতিনিধিদের গাড়ি আসছে কম। নতুন দামের বোতলের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। অনেক দোকানে আগের কেনা তেল থাকায় তারা নতুন করে অর্ডার দিচ্ছে না। দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষও তেল কিনছে কম। সব মিলিয়ে চাহিদা ও সরবরাহ দুটিই কমেছে ভোজ্য তেলের। তবে খোলা তেলের সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি চার থেকে ছয় টাকা বাড়তি দামে।

কেজিপ্রতি এক-দুই টাকা বেড়েছে চাল ও চিনির দাম। সবজি, ডাল ও মাংসসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের বাড়তি দামেই। নিত্যপণ্যের বাজারে চলতি সপ্তাহে ভোক্তার জন্য স্বস্তির খবর বলতে পেঁয়াজের দাম নামছে। গতকাল আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১৫ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা যায় পণ্যটি।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫২ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি। কিছু দোকানদার আগের দামের তেল থাকায় পরিচিত ক্রেতার কাছে ১৫০ টাকায়ও বিক্রি করছেন। আগের সপ্তাহে খোলা তেলের দাম ছিল ১৪৮ থেকে ১৪৯ টাকা কেজি। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি চার থেকে ছয় টাকা। আগের সপ্তাহে খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ১৩৮ টাকা কেজি। গতকাল ১৪২ টাকা পর্যন্ত দাম চাইলেন দোকানিরা।

মঙ্গলবার লিটারপ্রতি সাত টাকা বাড়িয়ে সব ধরনের ভোজ্য তেলের নতুন দাম ঘোষণা করেন মিল মালিকরা। নতুন দাম অনুসারে এক লিটারের সয়াবিনের বোতলের সর্বোচ্চ দাম হবে ১৬০ টাকা, খোলা সয়াবিনের লিটার ১৩৬ টাকা ও পাম সুপার এক লিটার ১১৮ টাকা।

বাজারে খোলা চিনির দাম কেজিপ্রতি আরো দুই টাকা বেড়ে ৮২ টাকায় উঠেছে। আগের সপ্তাহে ১৭৮ থেকে ১৮০ টাকায় কেনা যেত। তবে মসুর ডালের দাম আগের মতোই রয়েছে। বড় দানা ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ও ছোট দানা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি।

গতকাল রাজধানীর গোপীবাগ বাজারে আলমগীর নামের এক মুদি দোকানি বলেন, ‘এক-দুই লিটারের কোনো বোতলই আমার কাছে নেই। আগের দামের তেল বিক্রি করে ফেলেছি। এর মধ্যে কোনো কম্পানির ডিলার প্রতিনিধিরা আসেনি। তাই কেনাও হয়নি। আগের কিছু পাঁচ লিটারের বোতল রয়েছে শুধু।’

আমদানির গতি কমছে—এমন খবরে চালের বাজারও চড়ছে। চলতি সপ্তাহে কেজিপ্রতি এক-দেড় টাকা বেড়েছে চালের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, আগে যে মিনিকেট ৫৬ টাকায় বিক্রি করা গেছে, এখন তা ৫৭ টাকা হয়েছে। আটাশ, পাইজাম, কাটারি, নাজির, কাজল লতা, গুটি-স্বর্ণাসহ সব ধরনের চালের দামই বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৫০ থেকে ৭৫ টাকা বেড়েছে। মালিবাগ বাজারের মরিয়ম রাইস স্টোরের বিক্রেতা বলেন, চালের আমদানি আর হবে না বলে শুনছি পাইকারি বাজারে। তাই দামও বাড়ছে।

গত ১৪ অক্টোবর পেঁয়াজের দাম কমানোর জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক তুলে দেয় সরকার। এতে গত এক সপ্তাহে দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। বাজারে এখন পাবনার বাছাই করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা, ফরিদপুরের পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৬৫ টাকা ও ছোট আকারের দেশি পেঁয়াজ কেনা যাচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া আমদানির পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। সপ্তাহখানেক আগে দেশি ও আমদানি—সব ধরনের পেঁয়াজের কেজি ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আদা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

মাংসের বাজারে কোনো সুখবর নেই। ব্রয়লার আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজি। ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০৫ টাকা হয়েছে।

সবজির দাম এখনো আগের মতোই চড়া রয়েছে। পটোল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, শসা, লাউ, কইডা, বেগুনসহ বেশির ভাগ সবজির দাম গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া টমেটো, তালবেগুন (বড় গোল বেগুন), গাজর, সিম ও কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।



সাতদিনের সেরা