kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাঠেই পড়ে আছে ৭ লাখ টন লবণ, আমদানি বন্ধ চান চাষিরা

♦ এক মাস পরেই শুরু হচ্ছে উৎপাদন মৌসুম ♦ লবণশিল্পকে বাঁচাতে এখনই সরকারের কঠোর পদক্ষেপ আশা চাষিদের

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)    

১২ অক্টোবর, ২০২১ ১০:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠেই পড়ে আছে ৭ লাখ টন লবণ, আমদানি বন্ধ চান চাষিরা

ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় গত মৌসুমের উৎপাদিত লবণ এখনো মাঠের গর্তে পড়ে রয়েছে। ছবিটি চকরিয়া উপজেলার দরবেশকাটা এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

লবণ উৎপাদনকারী অঞ্চল কক্সবাজারের ছয় উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গত মৌসুমে উৎপাদিত লবণ এখনো মাঠের গর্তে এবং বিভিন্ন গুদামে পড়ে রয়েছে। বর্তমানে দেশের শিল্প এবং ভোক্তা খাতে লবণের কোনো ঘাটতিও নেই। দেশের মিল-কারখানায় যে পরিমাণ লবণ মজুদ আছে তা দিয়ে আরো কয়েক মাস চলবে। তা ছাড়া এক মাস পরেই শুরু হচ্ছে লবণ উৎপাদনের মৌসুম। তার পরও সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশ থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট লবণ আমদানির চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ এনেছেন লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

তাঁদের দাবি, লবণ চাষিদের তথা দেশীয় লবণশিল্পকে একেবারে ধ্বংস করে দিতে ঢাকাকেন্দ্রিক শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি নতুন করে অপতৎপরতা শুরু করেছে। সেই সিন্ডিকেটটির কারণে দেশীয় লবণশিল্প একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাই এই শিল্পকে বাঁচাতে এখনই সরকারের কঠোর পদক্ষেপ আশা করেছেন চাষিরা। 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) কক্সবাজার অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে সাড়ে চার লাখ এবং মিল-কারখানায় দেড় লাখ মিলে প্রায় ছয় লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ আছে। আর পাইপলাইনে (বিভিন্ন খুচরা মজুদদার) জমা আছে আরো অন্তত এক লাখ মেট্রিক টন লবণ। আগামী তিন মাসের চাহিদা অনুযায়ী লবণ দরকার হবে সাড়ে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মজুদ আছে সাত লাখ মেট্রিক টন। অতএব দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই এবং বিদেশ থেকে এক মুঠো লবণও আমদানি করার প্রয়োজন নেই।

অভিযোগ উঠেছে, এরই মধ্যে আমদানিকারক পুরনো সিন্ডিকেটটি আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে। সেই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কিছু লবণ মিল মালিক। তাঁরা একজোট হয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। যাতে বিদেশ থেকে যেকোনো উপায়ে লবণ আমদানি করা যায়। মাঠ পর্যায়ে কেজিতে লবণের দাম পাঁচ টাকা। কিন্তু প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা মূল্যে রয়ে যাচ্ছে বিরাট ফারাক। দালাল-মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেট ভারী হলেও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা। সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপই এই শিল্পকে বাঁচাতে পারে বলে প্রান্তিক চাষিরা জানিয়েছেন।

এই দাবিতে গত শনিবার কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন তাঁরা। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ এইচ এম শহিদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত লবণের বর্তমান মজুদ দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে আগামী ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালানো যাবে। চাহিদার বিপরীতে সাত লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ থাকলেও লবণ মিল মালিক সমিতির নাম দিয়ে একটি অকার্যকর সিন্ডিকেট আবারও সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছে। তাই দেশীয় লবণশিল্পবিরোধী ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।’



সাতদিনের সেরা