kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

নতুন বিনিয়োগে সুখবর

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে গতি

জিয়াদুল ইসলাম    

১০ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে গতি

করোনা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিনিয়োগে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। এত দিন শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিতে নেতিবাচক ধারা থাকলেও সেটি এখন বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই পণ্যটির আমদানি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর নতুন এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। গত এপ্রিল থেকেই এ পণ্যটির এলসি খোলা বাড়তে থাকে।

আর জুলাই থেকে এলসি নিষ্পত্তি তথা আমদানি বাড়তে শুরু করে। শুধু মূলধনী যন্ত্রপাতিই নয়, রপ্তানিতে গতি আসায় শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও বাড়ছে। এ ছাড়া ভোগ্য পণ্যের আমদানিও বেশ বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম দুই মাসে সার্বিক আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে রেকর্ড প্রায় ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

করোনার আঘাতে গত বছর টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ওই সময় কলকারখানা বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানিও আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। এর মধ্যে করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতে সোয়া এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার।

সেই সঙ্গে ৩০ মে থেকে সব কিছু খুলে দেওয়া হয়। এর পর থেকে ধীরে ধীরে আমদানি-রপ্তানি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসতে শুরু করে। এর মধ্যে হানা দেয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। তখন ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে এখন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এতে ব্যবসায়ী-শিল্প উদ্যোক্তারা বিদ্যমান বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ কারণেই শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) এক হাজার ৭৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৫.৩১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে এক হাজার ২১৩ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এই অঙ্ক ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮.৬০ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে ১১.০৩ শতাংশ। আর এলসি খোলা বেড়েছে ১১.৬৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে এই পণ্যটির আমদানি ১২.৩৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরেও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি নেতিবাচক ধারায় ছিল। ওই অর্থবছরে এ পণ্যটির আমদানি কমেছিল প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি আমদানি বেড়েছে শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের। প্রথম দুই মাসে এই পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ৭৬.৮৬ শতাংশ। আর এলসি খোলা বেড়েছে ৫৪.৪৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে এই পণ্যটির আমদানি বেড়েছিল মাত্র ৩.৯১ শতাংশ। এ সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি (আমদানি) বেড়েছে যথাক্রমে ৪৯.৯৭ শতাংশ ও ৩৬.৭২ শতাংশ।

গত অর্থবছরের পুরো সময়ে শিল্পের কাঁচামালের আমদানি বেড়েছিল মাত্র ১১ শতাংশ। এ সময়ে চাল, গম, ডাল, তেলসহ ভোগ্য পণ্যের এলসি খোলায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই ১০ মাসে ভোগ্য পণ্যের এলসি বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬২.৭১ শতাংশ। একই সময়ে ভোগ্য পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৩৭.৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া এই সময়ে জ্বালানি তেলের আমদানি বেড়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ। আর এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ।

রপ্তানি আয়েও বেশ গতি ফিরেছে চলতি অর্থবছরেই। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট এক হাজার ১০২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১.৩৭ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ৯৮৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

এদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরে জুন পর্যন্ত বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.৩৫ শতাংশ। গত আগস্ট পর্যন্ত (বার্ষিক) তা বেড়ে হয়েছে ৮.৪২ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা