kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

একনেকে উঠছে ৮ উন্নয়ন প্রকল্প

ব্যয় বাড়ছে কৃষি আবহাওয়া তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের

তামজিদ হাসান তুরাগ    

৫ অক্টোবর, ২০২১ ১১:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যয় বাড়ছে কৃষি আবহাওয়া তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের

ব্যয় বাড়ছে ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ’ প্রকল্পে। সেই সঙ্গে দুই বছর বাড়ছে মেয়াদও। এ জন্য প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সেখান থেকে ৯৩ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা বেড়ে এখন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২১২ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৫ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ১৯৭ কোটি ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যবস্থা করা হবে।

এটি বাস্তবায়িত হলে আবহাওয়া জলবায়ু ও নদ-নদীর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কিত উন্নত মানের পরিষেবা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং এসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উন্নত পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেট্রোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম পোর্টাল স্থাপন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন, নির্ভরযোগ্য কৃষি আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুতকরণ এবং তা বিভিন্ন সম্প্রসারণ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

প্রকল্প সংশোধনের মূল কারণ, কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক প্রায়োগিক গবেষণা, ১২টি কমিউনিটি রেডিও স্থাপন। কৃষি আবহাওয়া বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক নতুন বিভাগ চালুর জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রাপ্তি এবং সে অনুযায়ী নতুন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভ্যাট প্রভিশন, টেন্ডার, ট্যাক্স প্রভিশন, প্রাইস কন্টিনজেন্সি এবং অন্যান্য খাতে সাশ্রয় করা ৪২ কোটি ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সমন্বয় করা হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আবহাওয়া জলবায়ু ও নদ-নদীর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কিত উন্নত মানের পরিষেবা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং এসংক্রান্ত তথ্য- উপাত্ত সংগ্রহের উন্নত পদ্ধতি ব্যবহারে ডিএইর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’

তাছাড়া রাজধানীর সঙ্গে মানিকগঞ্জ ও কালামপুর-টাঙ্গাইলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে প্রকল্প নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ‘টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে এক হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। পুরোপুরি দেশীয় অর্থায়নে প্রকল্পটি পাস হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলা, মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। 

প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব (ডিপিপি) সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ৬১.৫২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া নির্মাণ করা হবে  পাঁচটি পিসি গার্ডার সেতু ও ৩১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমে বলা হয়, ৭৩.৪৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ, সাইন সিগন্যাল, কিলোমিটার পোস্ট, রোড মার্কিং, ট্রাফিক সাইন নির্মাণ করা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সঙ্গে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে এবং প্রকল্প এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা হলো ১২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৬১.৫২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা হবে, যা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

একনেকে উঠছে আরো যেসব প্রকল্প : সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) (১ম সংশোধিত), কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, কুষ্টিয়া (২য় সংশোধিত), জগন্নাথপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় দুটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) স্থাপন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদীতীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খাল-বিল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন, শরীয়তপুর জেলার কীর্তিনাশা নদীর ডান ও বাম তীর রক্ষা, বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন (১ম সংশোধিত)।



সাতদিনের সেরা