kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সীমিত জনবল নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে আদমজী ইপিজেড কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীমিত জনবল নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে আদমজী ইপিজেড কাস্টমস

আদমজী ইপিজেডের মতো দেশের অন্যতম বড় রাজস্ব আহরণের জায়গায় মাত্র ৮ জন কর্মকর্তা দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছে ইপিজেড কাস্টমস। ৬ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, এক জন রাজস্ব কর্মকর্তা ও এক জন সহকারী কমিশনার আইনানুগ সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করার পাশাপাশি নানা ধরনের সমস্যা মুখোমুখি হয়ে তারও সমাধান দিচ্ছেন।

সূত্রগুলো বলছে, তারা সবচে বেশি মুখোমুখি হচ্ছেন- কাস্টমস এজেন্ট এর প্রতিনিধিদের অসম্পূর্ণ দলিলাদি দাখিল করার মতো সমস্যাগুলো। এই অসম্পূর্ণ দলিলাদি এর কারণে পণ্যচালান খালাস কার্যক্রম অনেকটা স্লো হয়ে যাচ্ছে। উপরোন্ত এলসি এর শিপমেন্ট ডেট অতিক্রান্ত হওয়া দলিলাদি দাখিল না দিয়ে শিপমেন্ট ডেট সংশোধনপূর্বক পণ্য চালান খালাসের অনুরোধও করছেন অনেকে। যা আইন সম্যত নয়। ইপিজেড কাস্টমসকে গতিশীল করতে কাস্টমস কম্পিউটার সিস্টেম (ASYCUDA WORLD SYSTEM) এর কাজ চলমান রয়েছে, এটি পুরোপুরি চালু হলে সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে বলে সূত্র জানায়।

জানতে চাইলে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি, করছি। এই বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। কারো কোনো অভিযোগ আসলে সেটিও স্বল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করছি।

তিনি জানান, আগের তুলনায় এই বন্দরের কার্যক্রম আরো গতিশীল হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম এখানে নেই বললেই চলে। কাস্টমস কম্পিউটার সিস্টেম চালুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটি পুরোদমে কাজ করতে পারলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। পাশাপাশি সিএন্ডএফ এজেন্টসহ যেসব স্টকহোল্ডার রয়েছেন তাদের কষ্টও কমে আসবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি আদমজী ইপিজেডে সম্প্রতি ৫ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সেটি সূত্র ধরে কিছু গুজব ছড়ানো চেষ্টা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আদমজী ইপিজেড বিভাগের কাস্টমস সূত্রগুলো বলছে, পণ্য চালান খালাসের জন্য কাস্টমস এজেন্ট কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলাদি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাস্টমস এজেন্ট এর প্রতিনিধিগণ অসম্পূর্ণ দলিলাদি দাখিল করেন। যেমন: EXP No., UD/UP, Invoice No., Net/Gross Weight, H.S. Code পণ্যের বর্ণনা, আমদানিকারক/রপ্তানিকারক এর স্বাক্ষর ও কাস্টমস এজেন্ট এর সাক্ষল বিল অব এন্ট্রি রেজিস্টেশন নং ও তারিখ উলে­খ করা থাকে না। উক্ত প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ সরবরাহ করে পণ্যচালান খালাস নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

সূত্রের মতে, দাখিলকৃত দলিলাদির সঙ্গে এলসিএ, এলসি/সেলস কন্ট্রাক্ট এর কপি প্রায়ই দাখিল করা হয় না। এলসি/সেলস কন্ট্রাক্ট দাখিল করলেও মাঝে মাঝে দেখা যায় তাতে শিপ্টমেন্ট ডেট ও ভেলিডিটি উর্ত্তীণ হয়ে গিয়েছে। প্রায়ই দেখা যায়, সেলস কন্ট্রাক্ট এ দুই পক্ষের (আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক) স্বাক্ষর থাকে না এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক পণ্য চালান খালাস নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সম্প্রতি আবেদা ট্রেডিং নামীয় কাস্টমস এজেন্ট কর্তৃক এলসি এর শিপমেন্ট ডেট অতিক্রান্ত হওয়া দলিলাদি দাখিল করলে, শিপমেন্ট ডেট সংশোধনপূর্বক পণ্য চালান খালাস নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দলিলাদি ফেরত প্রদান করা হয়। কিন্তু উক্ত এজেন্ট কর্তৃক এলসি সংশোধন না করে শুল্ক কর্মকর্তার স্বাক্ষর নকল করে পণ্য চালান খালাস নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তা উৎঘাটিত হলে শুল্ক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া এস এস পি এন্টারপ্রাইজ নামীয় একটি কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সেলস কন্ট্রাক্ট টেম্পারিং করে পণ্য চালান সরবরাহের অপচেষ্টা করেন। উক্ত বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

আদমজী ইপিজেডে কর্মরত এক কাষ্টমস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়েই সিএন্ডএফ কর্মচারীরা কাষ্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত উৎকোচন আদায় করে আসছেন অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন কাগজ পত্র নিয়ে দুর্ব্যবহার, সিএন্ডএফ কর্মচারী হান্নানকে আটকে মশার ব্যাট দিয়ে বিদ্যুতের শক দেওয়ার মতো অভিযোগগুলো একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট।

জানা গেছে, আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত দলিলাদি নিয়ে কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের যে সকল প্রতিনিধিগণ শুল্ক দপ্তরে উপস্থিত হন তাদের অধিকাংশের বৈধ কাস্টমস সরকার পারমিট থাকে না। কাস্টমস বন্ডেড এরিয়ায় জোরপূর্বক কাস্টমস সংক্রান্ত আনুষঙ্গিকতা সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন, অন্যায় আবদার মোতাবেক কাজ না করলেই তারা উদ্ধতপূর্ণ আচরণ করে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নষ্ট করেন। এ বিষয়ে বেপজা (এইপিজেড) কর্তৃপক্ষ বরাবর ইতোমধ্যে দুইটি পৃথক পত্র প্রেরণ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরধারের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। 



সাতদিনের সেরা