kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুর্গাপূজায় রপ্তানির সুযোগ

ইলিশ যাচ্ছে ভারতে

♦ রপ্তানি হবে ২০৮০ টন ♦ আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই সুযোগ কার্যকর থাকবে ♦ অনুমোদন পেল ৫২ প্রতিষ্ঠান

এম সায়েম টিপু    

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলিশ যাচ্ছে ভারতে

ইলিশ ছাড়া যেন জমে না বাঙালির উৎসব আয়োজন। সুস্বাদু এ মাছের বাহারি পদ আর ম ম গন্ধ বাঙালির রসনা বিলাসে চাই-ই চাই। আসছে দুর্গাপূজায়ও ভোজন আয়োজনে বাড়তি আনন্দ যোগ করবে ইলিশ। তাই দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতে দুই হাজার ৮০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৪০ টন করে মোট ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে এই রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই অনুমোদন কার্যকর থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে দেশের ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমোদন দিয়ে আসছে সরকার। ২০২০ সালেও এক হাজার ৪৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভারতের ব্যবসায়ীরা একে অন্যের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ইলিশ মাছ নিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় না।

গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখার উপসচিব তানিয়া ইসলাম রপ্তানিকারকদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। যশোর জেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পেট্রাপোল হয়ে এসব ইলিশ ভারতে যাবে।

তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৫২ রপ্তানিকারক ৪০ টন করে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ পাবেন। কোনো ব্যবসায়ী অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করতে পারবেন না।’ তবে অভিযোগ উঠেছে, ইলিশ রপ্তানির জন্য রপ্তানি ট্রফি অর্জন করা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও তারা অনুমোদন পায়নি। তাই বাদ পড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরো বেশ কয়েকজনকে অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ২০১২ সাল থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২০ সালে এক হাজার ৪৫০ টন রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। চলতি বছর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৮০ টন।

বাংলাদেশে মা ইলিশ ও জাটকা ধরায় সরকারের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি আরোপের কারণে কয়েক বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। মৌসুমে এমনকি বড় ইলিশের প্রত্যাশার চেয়েও কম দামে কেনা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরাও বিভিন্ন দেশে রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

বিশ্বের যেসব দেশে বাঙালিরা বসবাস করে, সেই সব দেশেই মূলত ইলিশের চাহিদা রয়েছে; বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আমেরিকা, ইউরোপের দেশগুলো, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এই চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ইলিশ পাওয়া যায়। তবে স্বাদের দিক থেকে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দুই লাখ ৬০ হাজার টন ইলিশের উৎপাদন হলেও ২০১৯-২০ সালে মোট ইলিশের উৎপাদন হয়েছে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার টন। গত ১১ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ।

ভারতের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেলে ঝিমিয়ে পড়া হিমায়িত মৎস্য খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিকারক সমিতির নেতারা। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।



সাতদিনের সেরা