kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিনিয়োগ টানতে দরকার দূরদর্শী অর্থনৈতিক কূটনীতি: রেহমান সোবহান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনিয়োগ টানতে দরকার দূরদর্শী অর্থনৈতিক কূটনীতি: রেহমান সোবহান

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। ফাইল ছবি

বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বাংলাদেশের ‘দূরদর্শী অর্থনৈতিক কূটনীতি’ জোরদার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ ব্যাপক হারে বাড়ানোর প্রতি জোর দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘রপ্তানিতে ভিয়েতনামের দুর্দান্ত এগিয়ে যাওয়া: বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা রয়েছে’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারটির আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থার চেয়ারম্যান ড. জায়দি সাত্তার।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ আকর্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুবিধা ও নীতির কারণেই ভিয়েতনাম রপ্তানি বাণিজ্যে ‘বিস্ময়কর’ সাফল্য পেয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কীভাবে তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এগিয়ে গেল, কেন বাংলাদেশ পারল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘৩০ বছর আগেও অর্থনীতির প্রায় সকল সূচকে ভিয়েতনামের চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।’ সময়মতো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ না করায় বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রেহমান সোবহান বলেন, ‘একটা সময় সরকারগুলোর কাছে বার বার সুযোগ এলেও দক্ষতা, বিচক্ষণতা এবং অনেক ক্ষেত্রে সুশাসনের অভাবে সেসব সুযোগ কাজ লাগাতে পারেনি। ১৯৯০ সালের পর বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সরকারগুলো পেয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন,‘ স্যামসাং কেন বাংলাদেশ থেকে ভিয়েতনামে চলে গেল? এসব প্রশ্নের জবাব জানা খুব দরকার। স্যামসাংয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা অন্য উদ্যোক্তাদেরও এদেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে।’

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘হাজার বছর ধরে আমরা অন্যদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছি। তাই শাসন ব্যবস্থা ও নীতিমালা গ্রহণে আমাদের অদক্ষতা থাকতে পারে। তবে সুশাসনে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে এটা আমাদের কাছে অন্যরকম মনে হয়। দে আর ওয়ান পার্টি স্টেট। এক দলের দেশ। বাংলাদেশের রাজনীতি তা নয়।’ তিনি আরো বলেন,‘ ভিয়েতনামের অনেক কিছুর সঙ্গে বাংলাদেশে মিল নেই। তারপরও আলোচনা থেকে উঠে আসা বিভিন্ন সুপারিশ এবং পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ জানান, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৩২০ ডলার, ভিয়েতনামের ছিল মাত্র ১৩০ ডলার। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের আয় দাঁড়ায় ১৯৪০ ডলার, আর ভিয়েতনামের ২৫৯০ ডলার। ১৯৯০ সালে ভিয়েতনামের ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় ২০১৯ সালে হয়েছে প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ভিয়েতনামে ১৯৯০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ, বাংলাদেশের ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৯ সালের চিত্র হচ্ছে ভিয়েতনামে দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশে আর বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার রয়েছে গেছে ৯ দশমিক ২ শতাংশে।



সাতদিনের সেরা