kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ছাঁটাই বন্ধে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

করোনায় চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মীদের বহালের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মীদের বহালের নির্দেশ

ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই বন্ধে কঠোর অবস্থানে গেল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগ ছাড়া কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না। পাশাপাশি করোনা মহামারির সময়ে চাকরিচ্যুত বা পদত্যাগে বাধ্য হওয়া ব্যাংকের কর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২০১৫ সালের ২৮ মে ব্যাংকের কর্মীদের ইচ্ছামাফিক ঢালাওভাবে ছাঁটাই বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৮ জুন আরেক সার্কুলারের মাধ্যমে করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে অধিকতর উজ্জীবিত হয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এই দুটি সার্কুলারের উদ্ধৃতি দিয়ে নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিছুসংখ্যক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে এ মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কভিডকালীন শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করা বা অদক্ষতার অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং চাকরি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদত্যাগ করার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না, যা বিদ্যমান সার্কুলারগুলোর উদ্দেশ্য ও নির্দেশনার পরিপন্থী। এমন অবস্থায় করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় এবং এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা অটুট রাখার স্বার্থে বেশ কিছু নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর মধ্যে রয়েছে—সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত না করা, কভিডকালীন শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা বা অদক্ষতার কারণ প্রদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত অথবা পদত্যাগ করতে বাধ্য না করা এবং গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত হয়েছেন কিংবা চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের (আবেদনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে) বিধি মোতাবেক চাকরিতে বহাল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কিংবা যাঁরা চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের তথ্যাবলি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে পাঠাতে হবে। এ জন্য সার্কুলারে একটি সংযোজনী যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, চাকরিচ্যুতরা বা যাঁরা পদত্যাগ করেছেন বা পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন, তাঁরা অন্য কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানাও উল্লেখ করতে হবে। আর চাকরিরত অবস্থায় না থাকলে বা ব্যাংকের কাছে তথ্যাদি না থাকলে ব্যাংকে রক্ষিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, করোনার কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি থেকে দেশের অর্থনীতি পুনর্জীবিতকরণের লক্ষ্যে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নসহ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে গিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনার কারণে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হলে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে এবং তাঁদের মনোবল ও কর্মস্পৃহা হ্রাস পাবে।   ফলে ভবিষ্যতে মেধাবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ব্যাংকে যোগদানে অনীহা প্রকাশ করবেন, যা দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাংকিং খাতের জন্য ক্ষতিকর হবে।



সাতদিনের সেরা