kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

কোভিড-১৯ এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে

নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু এ মাসেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু এ মাসেই

কোভিড-১৯ এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের ২০০ কোটি টাকার ঋণের ৩০% এর বেশি নারী-উদ্যোক্তাদের দিতে চায় এসএমই ফাউন্ডেশন।

শনিবার ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি নিয়ে সারা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন এবং নারী-উদ্যোক্তা সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিদের সাথে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ মফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য মির্জা নুরুল গণি শোভন, প্রাক্তন সদস্য রাশেদুল করীম মুন্নাসহ বিভিন্ন ট্রেডবডি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৯০জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ঋণ বিতরণ শুরু করা হতে পারে। প্রান্তিক পর্যায়ের বেশি সংখ্যক উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকায় কমিয়ে আনা হয়েছে।

ড. রহমান আরো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনতে ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মোঃ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে পরিচালক পর্ষদের ১২৩তম সভায় ঋণ বিতরণ নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে। তারই আলোকে সারাদেশের এসএমই ক্লাস্টার উদ্যোক্তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০% বিতরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের ৭০% এবং ট্রেডিং খাতের উদ্যোক্তাদের ৩০% ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। তবে নারী-উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেডিং খাতে এ হার ৪০% পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া আবেদনের পর দ্রুততম সময়ে উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ পাওয়া নিশ্চিত করতে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা হবে এবং ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণ পাওয়া বা না পাওয়ার কারণ জানিয়ে দেয়ার বিষয়টি নীতিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।

বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা সাধারণ প্রচলিত ব্যাংক কর্তৃক হয়রানি দূর করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আলাদা এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। এ প্রেক্ষিতে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণসহ ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে পৃথক এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে অ্যাডভোকেসি করবে এসএমই ফাউন্ডেশন।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকা বিতরণ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরো জানান, এবার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ কয়েকটি নতুন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ড. রহমান আরো বলেন, প্রথম দফার ১০০ কোটি টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েছে, তা দূর করে দ্রুততম সময়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে এবারের ২০০ কোটি টাকা বিতরণে এসএমই ফাউন্ডেশন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সে মোতাবেক বিতরণ নিশ্চিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে।

করোনাভাইরাস (কোাভিড-১৯) পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রণোদনার আওতায় গত অর্থবছরে সফলভাবে ১০০ কোটি টাকা বিতরণের পর চলতি অর্থবছরে এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে আরো ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।
ফাউন্ডেশনের ঋণ কর্মসূচি বিতরণ বিষয়ক নীতিমালা ও নির্দেশিকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, করোনা মহামারীর কারণে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিম্নবর্ণিত ক্যাটাগরির উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে-
১. যারা সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণপ্রাপ্ত হননি;
২. অগ্রাধিকারভূক্ত এসএমই সাব-সেক্টর এবং ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা;
৩. নারী-উদ্যোক্তা;
৪. নতুন উদ্যোক্তা অর্থাৎ যারা এখনো ব্যাংক ঋণ পাননি;
৫. পশ্চাদপদ ও উপজাতীয় অঞ্চল, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তাগণ।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তাগণ ৪% সুদে ঋণ পাবেন। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকের চাহিদাকৃত ডকুমেন্টসহ ‘সম্পূর্ণ/পরিপূর্ণ ঋণ আবেদনপত্র’ ব্যাংকের নিকট দাখিলের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ মঞ্জুর করে গ্রাহকের অনুকূলে বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। সাধারণভাবে একক ও যৌথ মালিকানাধীন উদ্যোগের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে প্রান্তিক ক্ষুদ্র, বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৫জন উদ্যোক্তার অনুকূলে গ্রুপভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা যাবে। গত অর্থবছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এসএমই ফাউন্ডেশন অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক এক/একাধিক শাখায় ফোকাল কর্মকর্তা নির্ধারণ করবে। উদ্যোক্তারা ফোকাল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন। ফোকাল কর্মকর্তা এসএমই ফাউন্ডেশন, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা এবং উদ্যোক্তাদের সাথে সমন্বয় করবেন।



সাতদিনের সেরা