kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

করোনায় বিপর্যস্ত এসএমই খাত

ফারজানা লাবনী    

২০ আগস্ট, ২০২১ ১১:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় বিপর্যস্ত এসএমই খাত

মোট শিল্প খাতের ৯০ শতাংশই এসএমই। করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে এরই মধ্যে এসএমই খাতের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো টিকে আছে তা চলছে কোনো মতে। এসব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম সমস্যা আর্থিক সংকট। করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়নি। এসএমই খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রণোদনার সব অর্থ ছাড় করে সুষ্ঠুভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হলে আর্থিক সংকটে থাকা এসএমই উদ্যোক্তারা আবারও লাভে ফিরতে পারবেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এসএমই খাতের আটটি প্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন,জয়িতা ফাউন্ডেশন,এনজিও ফাউন্ডেশন,সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন,পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থ বিভাগ থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫৭০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়। ছাড়কৃত অর্থের ২৭৬ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

এসএমই খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়নে গ্রামীণ এলাকার ঋণদান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের অনুকূলে বরাদ্দের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ থেকে এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ১০০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি ছাড়কৃত ঋণের সবটা এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করেছে। জয়িতা ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে ১০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। ছাড়কৃত অর্থের একটি টাকাও গত ৩০ জুন পর্যন্ত এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের বিতরণ করা হয়নি। এনজিও ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে ছাড়কৃত অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে কোনো অর্থ গত ৩০ জুন পর্যন্ত এসএমই উদ্যোক্তাদের বিতরণ করা হয়নি। সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে ১০০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিতরণকৃত এসএমই ঋণের পরিমাণ ৪১.৬৩ কোটি টাকা। পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে ১০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ছাড়কৃত অর্থের একটি টাকাও এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হয়নি। ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি টাকার মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে ৫০ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে ১৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এই অর্থের ৬০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সংগঠন নাসিবের সভাপতি মির্জা নূরুল গণি শোভন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ১০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা আমাদের সংগঠনের সদস্য। করোনার কারণে তিন হাজারের বেশি উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। অন্যরাও ভালো নেই। ক্রমাগত লোকসানে আছে। এসব উদ্যোক্তার এখনই আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। না হলে এদের ব্যবসাও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ ঋণ হিসেবে সরবরাহ করা সম্ভব হলে তারা আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।’

করোনার কারণে এসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তারা বেশি সংকটে পড়েছেন—এমন দাবি জানিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী নাসরিন আউয়াল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে পহেলা বৈশাখ, চারটি ঈদসহ কোনো পালা-পার্বণে এসএমই উদ্যোক্তারা ব্যবসা করতে পারেনি। কখনো লকডাউন থেকেছে। কখনো গণপরিবহন বন্ধ থেকেছে। পণ্য বানিয়ে বিক্রি করতে পারেনি। কাঁচামাল সংগ্রহ করা যায়নি। করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই নারী উদ্যোক্তাদের কাছে সরকারের দেওয়া অর্থ অচিরেই পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। এতে তারা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে। এরই মধ্যে আর্থিক সংকটে অনেক এসএমই নারী উদ্যোক্তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।’



সাতদিনের সেরা