kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার

ডাব্লিউটিওতে আবেদনের দাবি

এম সায়েম টিপু    

৬ আগস্ট, ২০২১ ০৯:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার

দেশের পাটপণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চান এ খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডাব্লিউটিও) আবেদন করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, ভারত নতুন করে যে পর্যলোচনা সভার নোটিশ (সানসেট রিভিউ) দিয়েছে, তাতে দেশের পক্ষে রায় আসার সম্ভাবনা একেবারেই কম। ২০১৭ সালে একেবারে অন্যায্যভাবেই দেশের পাটজাত পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়।

এ জন্য ডাব্লিউটিওতে আবেদন করলে নিরপেক্ষ সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে ৯০ শতাংশ রায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি এই দাবি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত ২০১৭ সালের এপ্রিলে অ্যান্টিডাম্পিং আরোপের আগে দেশের পাটকলগুলোতে তদন্ত করতে যে শর্ত বা তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল, এটা করা হলে দেশের উদ্যোক্তাদের ব্যবসার নিজস্ব গোপনীয়তা বলে কিছু থাকত না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের চাওয়া তথ্য বেশির ভাগ ব্যবসায়ী দেননি। ফলে ন্যূনতম ৯ ডলার থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে। এর প্রভাবে দেশের অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক উত্পাদন হ্রাস পায়।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই খাতের উদ্যোক্তারা চাইলে সরকার ডাব্লিউটিওতে আবেদন করতে পারে। তবে দেশের পক্ষে রায় পাওয়ার সুযোগ কতটুকু আছে, এটাও বিবেচনায় আনতে হবে। এ জন্য এটা পরিচালনা ব্যয়ও সময়সাপেক্ষ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে পরামর্শক সভায় বৈঠকের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে ডাব্লিউটিওতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এখন ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় দর-কষাকষির মাধ্যমে  সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনটি পরামর্শক বৈঠক হয়েছে। এতে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে শক্ত যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।’

বিজেএমএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ২৭ জুলাই বাণিজ্যমন্ত্রীকে আমরা চিঠি দিয়েছি যেন বাংলাদেশে পাটপণ্য আমদানির ওপর ভারতের অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রতাহারে ডাব্লিউটিওতে আবেদন করা হয়। এতে আমাদের পক্ষে রায় পাওয়ার ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা তারা আমাদের ওপর অন্যায় আচরণ করেছে। তবে এখন আবেদন করার সময় কিছুটা কম হলেও দেড় মাস আছে। এতে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করবেন উদ্যোক্তারা।’ 

ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক জানান, স্বচ্ছ কাচ (ফ্লোটিং গ্লাস) একই অভিযোগ তুলে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের জন্য ভারতের তদন্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। লিখিতভাবে বিষয়টি ভারতের ডিজিটিআরকে (ডিরেক্টর জেনারেল অব ট্রেড রেমিডিস) জানিয়ে দেওয়া হবে। তাদের এই তদন্ত বা সিদ্ধান্ত ডাব্লিউটিও আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভারত তিনটি বাংলাদেশি কম্পানি নাসির গ্লাস, পিএইচপি ফ্যামিলি এবং উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, বাংলাদেশের এই কম্পানিগুলো ফ্লোটিং গ্লাস উত্পাদনে যে খরচ হয় তার চেয়ে কম মূল্যে ভারতে গ্লাস রপ্তানি করছে। এ কারণে ভারতের দেশীয় কাচশিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। আর এই যুক্তি দিয়ে এখন বাংলাদেশের কাচ রপ্তানিতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে চাইছে ভারত। তার আগে দেশটি বাংলাদেশের কাচ রপ্তানি নিয়ে তদন্তের বিষয়ে গত মাসে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে। তদন্তের পর ভারত পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশি কম্পানিগুলোর কাচ রপ্তানির ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে।

প্রসঙ্গত, ডাব্লিউটিওতে যাওয়ার ফলে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে গাড়ির ব্যাটারি রপ্তানির বেলায়ও ভারত অনুরূপ পদক্ষেপ নিয়েছিল। বাংলাদেশ ডাব্লিউটিওতে অভিযোগ করলে ২০০৬ সালে বিষয়টি বাংলাদেশের অনুকূলে মীমাংসিত হয়।



সাতদিনের সেরা