kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনায় পুরস্কৃত হচ্ছে আজ

মসলিন আবারও বিশ্ব মাতাবে

এম সায়েম টিপু    

২৭ জুলাই, ২০২১ ১০:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মসলিন আবারও বিশ্ব মাতাবে

দেশের হারিয়ে যাওয়া ৫০০ বছরের মসলিনশিল্প আবারও সফলভাবে ফিরে আসায় সরকারের বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছে আজ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এই স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে গ্রহণ করবে বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরি প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের সোনালি ঐতিহ্য এবং বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার করে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, শিগগিরই বাংলাদেশের অন্যতম  ব্র্যান্ডিং হবে ‘ঢাকাই মসলিন’।

আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হবে মসলিন কাপড়। আর ঢাকাই মসলিন রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে এবং বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি আবারও উজ্জ্বল হবে।

তাঁরা জানান, ঢাকাই মসলিনের জিআই অর্জিত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক লোকের, বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং জনপ্রশাসন পদক ২০২০ ও ২০২১-এর ঘোষণা করা হবে। এতে উল্লেখযোগ্য প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরি প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পকে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ (প্রাতিষ্ঠানিক) শ্রেণিতে জনপ্রশাসন পদক ২০২১-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আইয়ুব আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘ ৫০০ বছর পর ফিরে পাওয়া বাংলাদেশের মসলিন আবারও বিশ্ব মাত করবে। এটি দেশের ব্র্যান্ডিং হবে ক্রিকেটের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে আমাদের মসলিন। সরকারের এমন স্বীকৃতি আমাদের কাজের উৎসাহকে অনেক বাড়িয়ে দেবে।’

জানা যায়, বাংলার ইতিহাস মূলত মসলিনশিল্পে সমৃদ্ধ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস। বিশেষ জাতের ফুটি কার্পাস তুলা দিয়ে মসলিন সুতা তৈরি হয়। প্রাচীন ও মধ্যযুগে গোটা এশিয়ার মধ্যে ঢাকা ছিল বয়নশিল্পের শ্রেষ্ঠতম কেন্দ্র। ঢাকার বয়নশিল্পীদের হাতে তৈরি মসলিন কাপড় অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন, বাহারি রং আর মনোলোভা কারুকার্যমণ্ডিত এই বস্ত্র বিশ্বের সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, ধনী ও অভিজাত শ্রেণির মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ১৭৪৭ সালে মাত্র এক বছরে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঢাকাই মসলিন রপ্তানি করা হয়েছিল।

মোগল রাজশক্তির পতন, ব্রিটিশ শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির আধিপত্য বিস্তার, ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব, ঢাকাই মসলিনের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ, তাঁতি ও কারিগরদের আঙুল কর্তন ইত্যাদি কারণে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকাই মসলিন কাপড়ের উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ফুটি কার্পাসের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো সরকারই ঢাকাই মসলিন তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়নি। বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ অক্টোবর ২০১৪ সালে এই মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশের মসলিনের সোনালি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সেই নির্দেশনা অনুসারে বর্তমানে দেশে মসলিন কাপড় তৈরির প্রযুক্তি এবং ঢাকাই মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মসলিনের ছয়টি শাড়ি, সাতটি ওড়না এবং ছয়টি নমুনা কাপড় তৈরি করা হয়েছে। কাপড় তৈরির কার্যক্রম চলমান আছে। গবেষকদের মতে, ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়াম ও জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ঢাকাই মসলিনের সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত মসলিনের মিল রয়েছে।



সাতদিনের সেরা