kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

প্রায় ৪.৯২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি তথ্য উদঘাটন

ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুন, ২০২১ ২১:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা

একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রায় ৪.৯২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি তথ্য উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় আজ মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা করা হয়েছে। নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির নাম মেলোনেডস। এটি ঢাকার গুলশান - ১-এর প্লট-৮/এ, রোড-১৪৩-এ অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটির মূসক নিবন্ধন নং- ০০০৩৩৪২৭৩। ভ্যাট গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক মো. মাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত করে। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়কালের কার্যক্রম তদন্ত করে। এই তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন, দাখিলপত্র (মূসক-১৯) এবং বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের জমা করা ট্রেজারি চালানের কপি ও অন্যান্য দলিলাদি হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

এই প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন সেবা খাতের বিপরীত উৎসের মূসক বাবদ মাত্র ৬৯৭ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৬,৪৫,০৪৫ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত তথ্য গোপন করেছে মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, এতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ৬,৪৪,৩৪৮ টাকার ফাঁকি উৎঘাটন করা হয়। এই ফাঁকির ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২% হারে ২,৭০,৬২৬ টাকা বিলম্বজনিত সুদ হিসেবে প্রযোজ্য হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সেবা বিক্রয়ের ওপর ৩০,৮৭,৬২৭ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু তদন্তে উদ্ঘাটিত হয় যে, প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়ের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৩,৫৮,৫৫,৭২০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এতে অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ৩,২৭,৬৮,০৯৩ টাকা ফাঁকি উদঘাটন করা হয়। এই ফাঁকির ওপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২% হারে ১,৫০,৩৯,৭৫১ টাকা বিলম্বজনিত সুদ হিসেবে প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে, উল্লিখিত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতে কোনো ভ্যাট পরিশোধ করেনি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ২,৬৪,০০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ২,৬৪,০০০ টাকা ফাঁকি উৎঘাটিত হয়। এই ফাঁকির ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২% হারে ২,০৭,৮১০ টাকা সুদ টাকা আদায়যোগ্য হবে। বর্ণিত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৩,৩৬,৭৬,৪৪১ টাকা এবং সুদ বাবদ ১,৫৫,১৮,১৮৭ টাকাসহ ৪,৯১,৯৪,৬২৮ টাকা পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়।

তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানটিকে আত্মপক্ষ সমর্থনে একাধিকবার পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের বক্তব্য আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। তদন্তে উদ্ঘাটিত পরিহারকৃত ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনটি ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারটে প্রেরণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা