kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ভিন্ন নামে নীতিমালা: বিশ্বাসের ঋণ খেলাপি হলেই সুবিধা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০২১ ২২:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিন্ন নামে নীতিমালা: বিশ্বাসের ঋণ খেলাপি হলেই সুবিধা বন্ধ

বিশ্বাসের ঋণ বা লোন অ্যাগেইনেস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট (এলটিআর) এখন থেকে আমদানি পরবর্তী অর্থায়ন বা পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিং (পিআইএফ ) নামে অভিহিত  হবে।  একই গ্রুপভুক্ত বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেনা বেচাসহ স্থানীয় ঋণপত্রের পিআইএফ সুবিধা দেওয়া যাবে না। পিআইএফ ঋণ ওভারডিউ বা কিস্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে নতুন করে সুবিধা পাবে না গ্রাহক। সেই সাথে খেলাপি গ্রাহককে পিআইএফ সুবিধা প্রদান করা যাবে না। এছাড়া এ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানত বাধ্যতামূলক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আমদানি দায় পরিশোধে সহায়তা করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের এলটিআর ঋণ দিয়ে থাকে। নিয়ম হচ্ছে, আমদানিকারক বা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওই পণ্য বিক্রি করে ধীরে ধীরে ঋণ পরিশোধ করবে। এই ঋণের বিপরীতে জামানত থাকে না।

নতুন নীতিমালায়, পিআইএফের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,  নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য বা ট্রেডিং পণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে সকল প্রকার ঋণ সুবিধা যেমন এলটিআর, এলএটিআর, এমটিআর ও এমপিআই যে নামেই বলা হোক না কেন এসব ঋণ এখন থেকে বাংলায় "আমদানি পরবর্তী অর্থায়ন" এবং ইংরেজিতে "পোস্ট ইমপোর্ট ফাইন্যান্সিং (পিআইএফ )” নামে অভিহিত হবে।

ঋণের মেয়াদঃ গ্রাহকের চাহিদা, সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রকৃতি এবং উৎপাদন ও বিপণন চক্রের সাথে সঙ্গতি রেখে পিআইএফ এর মেয়াদ ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। তবে  নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ দিন এবং শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে  সর্বোচ্চ ১৮০ দিন এর বেশি হবে না।নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন, ক্রেডিট রেটিং সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে ঋণপত্র (এলসি) স্থাপন এবং পিআইএফ সুবিধার অনুমোদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। ওই নীতিমালায় ঋণপত্র এবং পিআইএফ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জামানতের বিষয়টি সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। ঋণপত্র এবং পিআইএফের অনুমোদনের সীমা নির্ধারিত থাকতে হবে। কোনভাবেই অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা দেয়া যাবে না।

পিআইএফ ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ হয়ে মেয়াদি ঋণে রূপান্তরিত হলে ওই ঋণকেও পিআইএফ হিসেবে গণ্য করতে হবে। আমদানি দায় পরিশোধে ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোন কারণে ফোর্সড ঋণ সৃষ্টি হলে ঐ ফোর্সড ঋণকেও (যে নামেই থাকুক না কেন)  পিআইএফ ঋণপত্রের সীমার আওতায় প্রদত্ত সুবিধা হিসেবে গণ্য করতে হবে। কোন গ্রাহকের অনুকুলে প্রদত্ত পিআইএফ সুবিধা ওভারডিউ হলে উক্ত গ্রাহককে নতুন করে পিআইএফ সুবিধা দেওয়া যাবে না। তবে নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণে পিআইএফ সুবিধা ওভারডিউ হলে খেলাপি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ঐ গ্রাহককে  পিআইএফ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই গ্রুপভুক্ত বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রসহ স্থানীয় ঋণপত্রের বিপরীতে পিআইএফ সুবিধা প্রদান করা যাবে না।

নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণে পিআইএফ সুবিধা পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলিকরণ প্রয়োজন হলে বা মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিটি পিআইএফের জন্য সর্বোচ্চ একবারের সময় বাড়ানো করা যাবে। নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিন এবং শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় বাড়ানো যাবে। ঋণ প্রদান, ঋণ আদায় ও তদারকি করার জন্য পিআইএফ মনিটরিং ইউনিট নামে আলাদাভাবে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করতে হবে। এই ইউনিট পিআইএফ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিদ্যমান বিধি-বিধান যথাযথভাবে পরিপালিত হচ্ছে কি না তা নিয়মিতভাবে তদারকি করবে।



সাতদিনের সেরা