kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের বাঁকবদল করছে জিম

করোনায় ডিজিটাল ট্রাক সেবার চাহিদা বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুন, ২০২১ ০২:২৬ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের বাঁকবদল করছে জিম

দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। ট্রাক কিংবা মালবাহী গাড়ির এই বিশাল খাতে আছে নানা অসচ্ছতা, প্রচলিত পরিবহন সেবাতেও আছে নানা দুর্বলতা। অনেক সময় কিছু মধ্যসত্বভোগীর জন্য ট্রাক মালিক এবং চালকদের হয়রানি হতে হয় প্রায়ই। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বেশি ভাড়া দিয়েও নির্ধারিত সময়ে গাড়ি খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

বিজ্ঞাপন

গাড়ি খোঁজা থেকে শুরু করে পণ্য শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রত্যেকটি স্তরে ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম জিম (গুডস ইন মোশন)।  

২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা জিমে ভেরিফাইড ও রেজিস্টারকৃত প্রায় ১৬ হাজার ট্রাক রয়েছে, যার দৈনিক ধারণক্ষমতা ১.৫ লাখ টনেরও বেশি এবং বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সক্ষম। দেশের রাস্তায় ব্যবহৃত সব ধরনের ট্রাক ভাড়া করা যাবে জিম অ্যাপে। আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে লজিস্টিক সেবায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জিমের মূল কম্পানি ই-যোগাযোগ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর আলভি। অদূর ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও জিম অ্যাপকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের কথা জানান তিনি।

সম্প্রতি তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু সড়ক পরিবহন নয়, নিকট ভবিষ্যতে জলপথ এবং আকাশপথেও পণ্য পরিবহন করতে চায় জিম। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এই সেবা দেবার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ট্রাক ভাড়ার অ্যাপ জিম ডিজিটাল ট্রাক।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে শিক্ষা এবং কর্ম অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা আলমগীর আলভি একজন এনআরবি প্রযুক্তি নেতা। তিনি বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি সেক্টরে একাডেমিশিয়ান এবং ইনোভেশন লিডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি আমেরিকার মিশিগান শহর থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপটিমাইজেশন বিষয়ে মাস্টার্স এবং ব্যবসন কলেজ থেকে এন্টারপ্রেনারশিপ এবং ফাইন্যান্সে এমবিএ করেছেন। বুয়েটের একজন ফ্যাকাল্টির দায়িত্ব পালনের পর, আলভি ভ্যারাটেক, টাইকো ইন্টারন্যাশনালে টেকনলজি এবং ইনোভেশনে কাজ করেছেন।

এছাড়াও আলভি দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় এমকেএস ইন্সস্ট্রমেন্টে টেকনলজি এবং ম্যানেজমেন্টে কাজ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইযোগাযোগ লিমিটেডের প্রথম পদক্ষেপ হলো জিম। জিম একটি ওয়েব এবং মোবাইল অ্যাপভিত্তিক অনলাইন ট্রাক বুকিং মার্কেটপ্লেস। এই অ্যাপের মাধ্যমে ট্রাক মালিক, এজেন্ট এবং চালকরা খুব সহজেই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং গ্রাহকরাও তাদের প্রয়োজন মতো বিভিন্ন রকম ট্রাক ভাড়া করতে পারেন।

পরিবহন খাত আনুমানিক সোয়া এক লাখ কোটি টাকার বাজার, যা গত পাঁচ বছরে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। বিশাল এই ইন্ডাষ্ট্রিতে কাজের ও পরিবর্তনের অনেক সুযোগ আছে বলে জানান আলমগীর আলভি। তিনি বলেন, মহামারিতে মালামাল পরিবহনে আমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছি।

করোনাকালে পরিবহন চাহিদাও বেড়েছে। একটি ট্রাক যাওয়ার সময় পণ্য নিয়ে গেলেও আসার সময় খালি আসলে জ্বালানির অপচয় হয়। কিন্তু আমরা সেই গাড়িটিতে যদি ফিরতি ট্রিপের মাধ্যমে পণ্য আনতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা সেই সুবিধাও দিচ্ছি।  

২০১৯ সালে যাত্রার পর প্রায় তাদের প্ল্যাটফর্মে ১৬ হাজার নিবন্ধিত গাড়ি আছে। ঢাকায় প্রধান কার্যালয় ছাড়াও চট্রগ্রাম ও খুলনা, বগুড়ায় জিমের অফিস আছে। রানার গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, লাফার্জ সিমেন্ট, শাহ সিমেন্ট, এসিআই, ইউনিয়ন গ্রুপ, এসকোয়্যার গ্রুপ, কাজী গ্রুপ, কেএসআরএমের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান জিমের এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছে।  

জিমের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর আলভি বলেন, একটি গাড়ি যখন কোনো পণ্য নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছে তখন অনেকে আসার সময় খালি আসছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমাদের নিবন্ধিত গ্রাহকদের কাছ থেকে আমরা ফিরতি ট্রিপেও পণ্য পরিবহনের সুবিধা করে দিচ্ছি যা পরিবহন খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে। একজন গাড়ি মালিক আমাদের সিস্টেম থেকে তার ড্রাইভার এবং গাড়ির পুরো গতিবিধি অনুসরণ করতে পারছেন। পণ্য পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগ করছি আমরা।

করোনা মহামারির এই সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে খুব সহজেই ট্রাক ভাড়ার সুবিধা দিচ্ছে ‘জিম’। যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে ট্রাক ভাড়া করা যায় মোবাইল থেকেই। অ্যাপের মাধ্যমেই একজন ট্রাক মালিক ও লজিস্টিকস ম্যানেজার যুক্ত হতে পারছেন, ট্রাক মালিক পাচ্ছেন পর্যাপ্ত ট্রিপ, লজিস্টিকস ম্যানেজার পাচ্ছেন বাজারের সেরা দর, নিরাপদ এবং প্রফেশনাল সার্ভিস। সব মিলিয়ে বি-টু-বি মার্কেটে জিম একটি আস্থাভাজন ও গ্রহণযোগ্য সলিউশনে পরিণত হয় বলে জানান আলমগীর আলভি।

তিনি বলেন, জিম অ্যাপ মূলত দুই ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য। একজন কাস্টমার, যিনি ট্রাকটি ভাড়া করেন। আরেকজন পার্টনার, যিনি ট্রাক ভাড়া দেন। আমাদের কাস্টমার অ্যাপটি গুগল প্লেস্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপস্টোর দুই জায়গাতেই পাওয়া যাবে। পার্টনার অ্যাপটি পাওয়া যাবে শুধু গুগল প্লেস্টোরে। অ্যাপটি ডাউনলোড করে একজন কাস্টমার খুব সহজেই তাঁর পণ্য, গন্তব্য এবং কী ধরনের ট্রাক চাই তা উল্লেখ করে ট্রিপ তৈরি করতে পারবেন। ট্রিপ তৈরি হওয়া মাত্র তা চলে যাবে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা আমাদের পার্টনারদের (ট্রাক মালিক/এজেন্সি মালিক) অ্যাপে। তখন তাঁরা সেই ট্রিপ বিড করতে শুরু করবেন।

যিনি ট্রিপটি জিতবেন, তিনি নির্ধারিত সময়ে ট্রাক নিয়ে চলে আসবেন লোডিং পয়েন্টে। ট্রিপ শেষে চালান জমা দিয়ে ব্যাংক, বিকাশ কিংবা ক্যাশের মাধ্যমে বুঝে নেবেন পেমেন্ট। ব্যবহারের দিক থেকে খুবই সহজ হওয়ায় অনেকেই এখন ট্রাক ভাড়া নিতে কিংবা ট্রিপ পেতে ব্যবহার করছেন জিম ডিজিটাল ট্রাক।

প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবহন ব্যবস্থা থেকে উন্নত সেবা পাচ্ছেন ভোক্তা এবং ট্রাক মালিক-চালক দু’পক্ষই। লেনদেনে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা, পণ্যের নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির সহজ ব্যবহার, ইত্যাদি কারণে বাণিজ্যিক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই এখন ঝুঁকছেন জিমের প্রতি। অদূর ভবিষ্যতে পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও জিম হয়ে উঠতে পারে নির্ভরযোগ্য এক প্রতিষ্ঠান।



সাতদিনের সেরা