kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

৫৫% অর্থায়নের দায়িত্ব এনবিআরের

ফারজানা লাবনী    

৩ জুন, ২০২১ ০৭:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৫৫% অর্থায়নের দায়িত্ব এনবিআরের

আজ জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঁধে আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থায়নের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানাবেন। বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নকালেই করোনাকালীন সংকটে বিপাকে থাকা এনবিআর অর্থমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া এই লক্ষ্যমাত্রা কমানোর জোরালো আবেদন জানায়। কিন্তু অর্থমন্ত্রী তা আমলে আনেননি।

আগামী অর্থবছরের জন্য তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় খাত হিসেবে ভ্যাট খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাটের পরে আয়কর, সবচেয়ে কম শুল্ক আদায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। 

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন, করোনার প্রকোপ কমেনি। সামনে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। আসছে বার অবাস্তব এই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে দেশের আয়-ব্যয়ের হিসাব কষায় সমগ্র অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হবে। গত বছরের মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এই ব্যাধির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক ধারা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অর্থমন্ত্রী করোনাকালীন সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে ঢালাওভাবে কর বসাতে পারেননি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সূত্র আঁকতে এনবিআর সহজ পথে হেঁটেছে। ভ্যাট রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে সহজ খাত। ভ্যাট যোগ করে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়, যা ক্রেতা নিজের অজান্তে পণ্যের মূল্য হিসাবে বাধ্য হয়ে পরিশোধ করে থাকে। ধনী, দরিদ্র- সবাইকে একই হারে ভ্যাট দিতে হয়। ভ্যাটের হার বেশি ধার্য করায় করোনাকালীন সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর রাজস্বের ভার কমল না।  

রাজস্ব আদায়ের সূত্র আঁকতে গিয়ে সম্পদশালীদের কাছ থেকেও আয় বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এ জন্য কর ফাঁকি ধরতে নতুন নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থপাচার বন্ধে পাচারকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে আদায়ের বিধান করেছেন। আগামী অর্থবছরেও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হচ্ছে, তবে কমানো হচ্ছে বিশেষ সুযোগ। সম্পদশালীদের ধরতে অর্থমন্ত্রী সারচার্জের স্লাবে রদবদল এনেছেন। আসন্ন বাজেটে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের সারচার্জ দিতে হবে না। তিন কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি পর্যন্ত ২০ শতাংশ, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি পর্যন্ত ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদশালীদের আয়করের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।

আসছে অর্থবছরের বাজেটে ছোট-বড় সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কম-বেশি সুযোগ দিয়ে করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে দেশি শিল্পে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে হালকা প্রকৌশলশিল্পে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন, সিমেন্ট ও স্টিলশিল্পে আমদানি পর্যায়ে আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানা যায়। রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাক শিল্পে করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় চলমান সুবিধার সঙ্গে আগামী অর্থবছরের জন্য রপ্তানি প্রণোদনা, গ্রিন বিল্ডিং সার্টিফিকেশন আছে—এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য রাজস্ব ছাড় দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত উৎপাদনশীল খাতের কম্পানির করহার কমানো হয়েছে। দেশি শিল্প খাতে ব্যবহৃত অধিকাংশ কাঁচামালের আমদানি শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, লোহার রড, স্লাব, মোটরসাইকেল ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, নির্মাণসামগ্রী, টেক্সটাইল, চামড়া খাত, পাটশিল্প, দেশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, মোবাইল, ওষুধ ও অটোমোবাইল শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর কমানো হয়েছে। এসব শিল্পের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাটেও থাকছে রেয়াতি ও মওকুফ সুবিধা।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে ব্যাপক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। করোনাকালীন সংকটে কৃষি খাতের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাজেটে কৃষি যন্ত্রপাতির দাম কমানো হয়েছে, কৃষি খাতে বিনিয়োগে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলমূল, শাকসবজি, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণেও রয়েছে রাজস্ব ছাড়। তবে মাছ চাষে কঠোরতা আনা হয়েছে। মাছ চাষে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয় হলে তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ হয়েছে।

বাজেটে প্রযুক্তি খাতের বিকাশে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আমদানীকৃত কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তবে বাজেটে করোনাকালীন সংকটে থাকা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাজেটে চাল, ডাল, চিনি, লবণ, দেশে উৎপাদিত পেস্ট, পাউরুটি, সাবান, বোতলজাত পানি, দেশে উৎপাদিত ফলের জুস, মসলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ানো হয়নি। করোনা রোধে ব্যবহৃত স্বাস্থ্য সামগ্রীতে শুল্ক ছাড় দিয়ে সাধারণ মানুষের খরচ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা