kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

মহামারির ধাক্কা সামলাতে গুরুত্ব দিতে হবে স্থানীয় শিল্পকে

রিজওয়ান রহমান, সভাপতি, ডিসিসিআই

এম সায়েম টিপু    

২৩ মে, ২০২১ ১০:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহামারির ধাক্কা সামলাতে গুরুত্ব দিতে হবে স্থানীয় শিল্পকে

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছরে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দেশের অর্থনীতি। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি তৈরি হচ্ছিল; ঠিক তখনই দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হানে এই মরণঘাতী ভাইরাস। বর্তমানে কী অবস্থায় আছে এবং এর থেকে উত্তরণের উপায় কী এবং আসন্ন বাজেটের কোন বিষয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি এক ধরনের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একদিকে রপ্তানি কমছে অন্যদিকে স্থানীয় বিনিয়োগ স্থবির হয়ে গেছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী বাজেটে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং কুটির, ক্ষুদ্র এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় শিল্পকে শক্তিশালী করতে শিল্পবান্ধব করব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ২০২৬ সালের পর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা হারাতে পারে। এ সময় নিজেদের স্থানীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা না গেলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে বাংলাদেশ। এ জন্য বিদেশি বিনিয়োগ টানতে স্থানীয় শিল্পকে প্রণোদনা দিতে হবে।

এ জন্য তিনি করপোরেট কর ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আগামী তিন বছর করপোরেট কর আড়াই শতাংশ হারে কমিয়ে আনা গেলে দেশের করপোরেট করের হার হবে ২৫ শতাংশ। এটা তখন আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছাকাছি হবে। বর্তমান করপোরেট করের হার ৩২ শতাংশের বেশি। করপোরেট কর সারা বিশ্বের প্রথা অনুসারে বাংলাদেশে অনেক বেশি উল্লেখ করে রিজওয়ান রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোর করের ধারা হলো ২১ শতাংশ, এশিয়ায় ২৩ শতাংশ এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোয় ২৫ শতাংশ।

তাই দেশের কর ব্যবস্থাপনাকে ব্যবসায়ীবান্ধব করার কথা উল্লেখ করে রিজওয়ান রহমান বলেন, কর মানে আতঙ্ক এবং হয়রানি। এই অপবাদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ঘোচাতে হবে। এ জন্য কর ব্যবস্থাপনাকে পুনর্গঠন করতে এবং হয়রানি কমাতে ফুল অটোমেশন অব টেক্স রিটার্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, গত বছরের লকডাউনে ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ীরা পারিবারিক সঞ্চয় ভেঙে পরিবারের ভরণ-পোষণ করেছেন। এ বছরও যখন লকডাউনে আরো কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন; এ সময় সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রণোদনা তাঁরা পাননি।

তিনি বলেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অবদান ৪৪ শতাংশ হলেও তাঁরাই নিয়মিত ঠকছেন। গত বছর সরকারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেও গত মার্চ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ প্রণোদনার অর্থ বিতরণ সম্ভব হয়নি।

ডিসিসিআইয়ের এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে রিজওয়ান রহমান বলেন, প্রণোদনার ঋণ পেতে ৬৬ শতাংশ অতিক্ষুদ্র আবেদন করেননি। যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁদের ৩৪ শতাংশের মধ্যে ৪৫ শতাংশ ঋণ লাভে সক্ষম হয়েছেন। আরো ৫৫ শতাংশ আবেদন প্রক্রিয়াধীন। এই তথ্য ডিসিসিআইয়ের সাড়ে চার হাজার সদস্যের পরিসংখ্যান অনুসারে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে তিনি বলেন, প্রণোদনা বিতরণে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন, নজরদারি কর্তৃপক্ষ এবং ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য তিনি তৃতীয় পক্ষের নজরদারির ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে রিজওয়ান রহমান বলেন, করোনায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। অথচ এ খাতের কারণে বছরে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলার বিদেশ চলে যায়। শিক্ষা খাতে করোনার প্রচণ্ড দখল যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বরাবরের মতো অবহেলিত শিক্ষা খাতে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া জিডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে হার বাড়াতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো।



সাতদিনের সেরা