kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

উন্নত দেশের মডেলে পুঁজিবাজারে সরকারি বন্ডের লেনদেন চালুর প্রস্তাব

ভিন্ন আরেকটি কাঠামো দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত সব পক্ষের

জিয়াদুল ইসলাম    

৬ এপ্রিল, ২০২১ ১১:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উন্নত দেশের মডেলে পুঁজিবাজারে সরকারি বন্ডের লেনদেন চালুর প্রস্তাব

লকডাউনে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে যানচলাচল ছিল খুবই কম। বেশির ভাগ ব্যাংকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহককে ভেতরে ঢোকানো হয়েছে (ইনসেটে)। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

বিশ্বের অনেক দেশে পুঁজিবাজার প্ল্যাটফর্মে সরকারি সিকিউরিটিজের (ট্রেজারি বন্ড ও বিল) লেনদেন চালু থাকলেও বাংলাদেশে এখনো সম্ভব হয়নি। এতে সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো যাচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে এক বছর আগে পুঁজিবাজার প্ল্যাটফর্মে সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এত দিন যে মডেলে লেনদেন চালুর কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই মডেল আর এখন চাইছে না বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর পরিবর্তে উন্নত দেশের মডেলে লেনদেন চালুর প্রস্তাব করে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এ বিষয়ে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈঠকটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পুঁজিবাজার প্ল্যাটফর্মে সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন নিয়ে এক বছর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মিলে একটা রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ অনেক এগিয়েও যায়। কিন্তু হঠাৎ করে বিএসইসি থেকে নতুন পদ্ধতি নির্ধারণ করে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। বৈঠকে নতুন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও এখন ভিন্ন আরেকটা কাঠামো দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা যায়, বিএসইসি যে মডেল দিয়েছে সেটা পার্শ্ববর্তী কোনো দেশে নেই। এটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোতে চালু আছে। এ ছাড়া নতুন মডেলে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশকে (সিডিবিল) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যেটা আগের মডেলে ছিল না। ফলে এটা বাস্তবায়ন করা একটু জটিল হবে। বিশেষ করে নতুন মডেলে বাস্তবায়নে সফটওয়্যারে পুরোপুরি নতুনভাবে স্থাপন করা লাগতে পারে। অন্যদিকে আগের মডেল বিদ্যমান সফটওয়্যার হালকা একটু পরিবর্তন করেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল। তবে বৈঠকে উন্নত দেশের মডেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও লেনদেন চালুর বিষয়ে ভিন্ন আরেকটি কাঠামো দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রত্যেক বিও হিসাবধারীর বিজনেস পার্টনার আইডি খোলা হবে। এই আইডির মাধ্যমে বিও অ্যাকাউন্টধারী সরকারি বন্ড কেনার পর সেই তথ্যটা সিডিবিল হয়ে বিদ্যমান এমআই মডেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আসবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন মডেলে যাঁরা বিনিয়োগকারী তাঁদের কোনো বিজনেস পার্টনার আইডি থাকবেই না এ রকম ছিল। আবার আগের মডেলে বন্ডে বিনিয়োগকারীর নাম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আসত না। সিডিবিএলের নামেই এখানে আসত। এখন নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীর বিজনেস পার্টনার আইডি থাকায় তাঁর নামেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য চলে আসবে। বিনিয়োগকারীর প্রতিনিধি হিসেবে ব্রোকারেজ হাউস যা করা লাগে সব কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে করবে। তাহলে এটা কোন মডেল বলা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিবি বলেন, আসলে এটা কোনো মডেলের মধ্যে পড়ে না, শুধু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা নিয়ে একটা কাঠামো বানাতে হবে। তিন পক্ষ মিলে এই কাজটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাঠামো দাঁড় করানোর পর লেনদেন চালু করতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো বিএসইসির চেয়ারম্যানের লেখা চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার থেকে ইস্যুকৃত সিকিউরিটিজগুলো বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রাইমারি ডিলার ও অন্যান্য বিনিয়োগকারী সরাসরি অকশনে অংশগ্রহণ করে বা প্রাইমারি ডিলারদের মাধ্যমে সেকেন্ডারি মার্কেটে সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় করছে। যেহেতু সরকারি সিকিউরিটিজ সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে প্ল্যাটফর্মে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে না, সেহেতু পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সরাসরি সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন না। ফলে সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ জনগণ তথা সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ খুবই অপ্রতুল, যা সম্প্রতি অর্থ বিভাগ কর্তৃক ইস্যুকৃত সরকারি সুকুক অকশনেও পরিলক্ষিত হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, বহির্বিশ্বে সরকারি সিকিউরিটিজগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্ল্যাটফর্মে ও স্টক এক্সচেঞ্জের প্ল্যাটফর্মে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে সরকারি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের মাধ্যমে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ তথা স্টক এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মে সহজে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে সে ব্যাপারে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা