kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মরিয়া কম্পানিগুলো

পাস্তুরিত দুধের চাহিদা ফের বেড়েছে

এ এস এম সাদ    

২৬ মার্চ, ২০২১ ১১:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাস্তুরিত দুধের চাহিদা ফের বেড়েছে

করোনার আঘাত থেকে রেহাই পায়নি দুগ্ধশিল্পও। গত মার্চ ও এপ্রিলে তরল পাস্তুরিত দুধের চাহিদা কমেছিল। গেল বছরের ওই দুই মাসে কম্পানিটির তরল পাস্তুরিত দুধের চাহিদা প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। বর্তমানে অবস্থা উন্নতি হলে ফের বেড়েছে পাস্তুরিত দুধের চাহিদা। এমন অবস্থায় আবারও বেড়েছে করোনার প্রকোপ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের মতো পাস্তুরিত দুধের চাহিদা কমার আশঙ্কা নেই। করোনা আতঙ্কে মিষ্টির চাহিদা কমেছিল। আর মিষ্টি তৈরির কম্পানিতে দুধের চাহিদা দেয় দেশে গড়ে ওঠা তরল পাস্তুরিত দুধের কম্পানি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মিল্ক ভিটা, আড়ং, প্রাণসহ আরো বেশ কয়েকটি কম্পানি।

আবার রেস্টুরেন্ট, খাবার দোকান, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য খাবার তৈরি করতে দুধের ব্যবহার প্রায় সর্বত্র, এগুলোও বন্ধ হয়েছিল।

করোনায় মিল্ক ভিটা কম্পানিটির সরবরাহ নেমেছিল ৮০ হাজার লিটারে। কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমর চান বণিক বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিদিন এক লাখ ৪০ লিটার দুধের সরবরাহ করা হয়। করোনার মধ্যে ২০-২৫ শতাংশ সরবরাহ কমে ৮০ হাজার লিটারে নেমেছিল। তবে গেল বছর রমজান ও ঈদ উপলক্ষে দুধের চাহিদা বেড়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফের করোনার প্রকোপ বাড়লেও সরবরাহের কোনো ঘাটতি এখনো হয়নি। বরং আসন্ন রমজান ও ঈদ উপলক্ষে দুধের চাহিদা বেড়েছে। এক লাখ ৮০ হাজার লিটার পর্যন্ত সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত দুধ পাউডার করে সংরক্ষণ করা হয়।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের তরল পাস্তুরিত দুধের চাহিদাও কমেছে। কম্পানিটির ১২ হাজার চুক্তিভিত্তিক দুগ্ধ খামারি রয়েছে। গ্রুপটির পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘পুরো দেশে প্রায় এক লাখ লিটার তরল পাস্তুরিত দুধ সরবরাহ করে। গত বছরে বন্যার কারণে জুলাই অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই শিল্পে ক্ষতি হয়। প্রাণের তরল দুধের উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুধ কমে যাওয়ার মূল কারণ হল গাভি কমে যাওয়া ও লিটারপ্রতি কম দুধ দেওয়া। তবে এর সঙ্গে গো খাদ্যের মূল্যও বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারছেন না।’

রাজধানী মোহাম্মদপুর এলাকায় বিভিন্ন কনফেকশনারি ও মুদি দোকানে সরেজমিনে ঘুরে বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর মার্চ-এপ্রিলে করোনার প্রথম দুই মাসে তরল পাস্তুরিত দুধের চাহিদা অনেক কমে গিয়েছিল। তখন পাউডার দুধ বেশি বিক্রি হতো। করোনা সংক্রমণ আতঙ্কে অনেকেই তরল দুধ কিনতে আগ্রহী ছিলেন না।

বিক্রেতারা আরো জানান, প্রত্যেক রোজার সময় তরল দুধের চাহিদা বাড়ে। গতবার বিক্রিও ছিল অনেক কম। তবে করোনা-পরবর্তী গত দুই মাসে তরল পাস্তুরিত দুধের বিক্রি বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর তরল পাস্তুরিত দুধের চাহিদা কম ছিল। তবে এবার সেই পরিস্থিত হওয়ার আশঙ্কা কম। বরং পাস্তুরিত তরল দুধের চাহিদা আগের চেয়ে বাড়ছে। বেশি মুনাফা অর্জন না করলেও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হক কনফেকশনারিতে বেসরকারি চাকরিজীবী সামসুল হক কেনাকাটা করতে এসেছেন।

তিনি বলেন, পাউডার দুধ কম খাওয়া হয়। তরল পাস্তুরিত দুধেই আমিষের চাহিদা জোগান দেয়। করোনা আতঙ্কে কয়েক মাস খাওয়া বন্ধ ছিল। ডিসেম্বর থেকে আবার কেনা শুরু করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা