kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

ঢাকা ক্লাবের ৩৪ কোটি টাকার ভ্যাট বাকি, ১৫ দিন সময় চেয়ে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০২১ ২১:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা ক্লাবের ৩৪ কোটি টাকার ভ্যাট বাকি, ১৫ দিন সময় চেয়ে আবেদন

ঢাকা ক্লাবকে গত পাঁচ বছরে অনেকবার তাগাদা দেয়ার পরও এখনো তারা সঠিক হিসাবে ভ্যাট পরিশোধ করেনি। সরকারি কোষাগারে ৩৪ কোটি টাকার ভ্যাট বাকি রয়েছে ঢাকা ক্লাবের। সম্প্রতি এনবিআর থেকে তলব করা হলে সংশ্লিষ্টরা ১৫ দিন সময় চেয়েছেন। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা ক্লাবে সমাজের প্রভাবশালীদের যাতায়ত।  ক্লাবটির প্রধান আয় আসে বার থেকে।  এছাড়া বুকিং চার্জ, সার্ভিস চার্জ, ভাড়া, বেকারী থেকে আয়, বিউটি পার্লার, গেস্ট হাউস ভাড়া, হেলথ সার্ভিস, কার্ড রুম, লন্ড্রি সার্ভিসসহ বিভিন্ন খাত থেকেও ঢাকা ক্লাবের আয় হয়। পাওনার চেয়ে কম ভ্যাট পরিশোধ করছে এমন গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০১৭ সালে ঢাকা ক্লাবের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। টাস্কফোর্স ক্লাবটির অডিট রিপোর্ট যাচাই করে ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে ২৬ কোটি ৬৯ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৩ টাকার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি চিহ্নিত করে। ২০১৫ ও ২০১৬ মেয়াদেও ৭ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫৮টাকার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি পাওয়া যায়।

এভাবে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। এ অর্থের ওপর প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ অতিরিক্ত সুদ নিয়মিত পওনার সঙ্গে যোগ হবে। তদন্তে ঢাকা ক্লাব বিভিন্ন সেবা বিক্রি, উৎসে মূসক কর্তন, স্থান-স্থাপনা ভাড়া এবং রেস্টুরেন্ট ও মদের বারের বিক্রির তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভ্যাট ফাঁকি দেয়ায় ২০১৭ সালে ক্লাবটির বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা-৫৫(১) অনুসারে দাবীনামা এবং পরবর্তীতে ধারা-৫৫(৩) অনুসারে চূড়ান্ত দাবীনামা জারি করে ঢাকা (দক্ষিণ) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।

টাস্কফোর্সের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, , শুরু থেকেই এনবিআরের দাবিনামার বিপরীতে লিখিত জবাব দাখিল থেকে বিরত থাকে ঢাকা ক্লাব । রাজস্ব জমা দিতে অহেতুক সময় বৃদ্ধির আবেদন করে এবং মামলার শুনানীতে উপস্থিত না থাকাসহ বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। দাবীনামা চূড়ান্ত করার পরেও ক্লাবটি ফাঁকিকৃত রাজস্ব পরিশোধ না করায় মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা-১৯৯১ এর বিধি ৪৩ মোতাবেক একাধিক নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারী ২ মাস সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে ঢাকা (দক্ষিণ) কমিশনারেটর সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা ক্লাবের কাছে অনেক দিন থেকে রাজস্ব পাওনা আছে।  রাজস্ব আদায়ে আইন মোতাবেক যা যা কার্যক্রম গ্রহণ করার বিধান রয়েছে, তাই অনুসরণ করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ করেনি। সরকারি রাজস্ব আদায়ে এনবিআর কঠোর অবস্থানে আছে।



সাতদিনের সেরা