kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

ভ্যাটের অর্ধেক দেন ১৪৩ ব্যবসায়ী

ফারজানা লাবনী    

৪ মার্চ, ২০২১ ১১:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভ্যাটের অর্ধেক দেন ১৪৩ ব্যবসায়ী

মোট আদায়কৃত ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) প্রায় ৫৭ শতাংশ প্রদান করছে বৃহৎ ভ্যাট প্রদানকারী ইউনিটের আওতাধীন ১৪৩ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। সারা বছর রমরমা ব্যবসা করেও সারা দেশে লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নজরদারির বাইরে আছে। এতে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে এনবিআর সংশ্লিষ্টরা জানান, নজরদারির বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ে আরো কঠোর হচ্ছে। 

এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বাতিল করে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এনবিআরে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল প্রায় আট লাখ। এর মধ্যে গড়ে প্রতিবছর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করত ৩০ থেকে ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠান। এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেছে প্রায় দুই লাখ ৩১ হাজার প্রতিষ্ঠান। ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেছে অনলাইনে ৯৬ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার প্রতিষ্ঠান।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি ডায়ালগ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর কালের কণ্ঠকে বলেন, সারা দেশে ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক এনবিআরের নজরদারির বাইরে থাকতে খুব কৌশলে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। অনেকে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েও হিসাব মতো ভ্যাট দিচ্ছে না।

৯০ দশক থেকে এ দেশে ভ্যাট ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। জনগণের কাছ থেকে সরাসরি রাজস্ব আদায়ের এই পদ্ধতিকে ভ্যাট বলা হয়। ক্রেতাকে পণ্যের মূল্যের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট দিতে হয়। আমাদের দেশে ভ্যাট আদায় করে হিসাব মতো সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে এমন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত। অনেক প্রতিষ্ঠান ভালো বেচাকেনা করেও এনবিআরের নজরদারির বাইরে থাকতে ভ্যাট নিবন্ধনই গ্রহণ করেনি। বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব চললেও এনবিআরের লোকবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবে ভ্যাট ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠান নজরদারিতে আনা সম্ভব হয়নি। এনবিআর এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে অনলাইনভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থায় জোর দিয়েছে।

অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ভ্যাট প্রদানে সক্ষম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। পর্যায়ক্রমে ভ্যাট প্রদানে সক্ষম সব প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আনতে এনবিআর গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের সংগঠনে নিবন্ধিত ২২ লাখের বেশি দোকান ব্যবসা করছে। আমরা ইএফডি ব্যবহারে প্রস্তুত। এনবিআর কয়েক বছর থেকে ইএফডি সরবরাহ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এখন কয়েক হাজার ইএফডি সরবরাহ করা হয়েছে। দেখা যাক কত দিনে এনবিআরের সক্ষম আসে। প্রত্যেক বিক্রয়কেন্দ্রে ইএফডি সরবরাহ করা হলে হিসাব মতো ভ্যাট আদায় হবে।’

বড় মাপের ১৪৩ প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকটি এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (ভ্যাট) এলটিইউএর আওতায় রাজস্ব পরিশোধ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্যাট পরিশোধ করছে সিগারেট, মোবাইল, কোমল পানীয়, ওষুধ, সিমেন্ট, ব্যাংক, সিরামিক, টয়লেট সোপ, প্রাকৃতিক গ্যাস খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট আদায়কৃত ভ্যাটের ৫৭ শতাংশ পাওয়া যায়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সারা দেশে একটি সুষম ভ্যাট ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। ভ্যাট জালের বাইরে থাকা সব প্রতিষ্ঠানকে নজরদারিতে আনতে সক্ষম হলে এনবিআরের আদায় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ পড়বে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা