kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

বাজেটে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেওয়ার দাবি

ঢাকার বাইরে শিল্প বিকাশে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার চিন্তা এনবিআরের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০২১ ২০:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার বাইরে শিল্প বিকাশে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার চিন্তা এনবিআরের

ফাইল ফটো

করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় দেশে ক্ষুদ্র, কুটির শিল্প ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের বাজেটে সহায়তার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে এ খাতের বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা দেওয়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের দুই সংগঠন।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) পক্ষ থেকে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।  

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পর্যায়ক্রমে এসব আলোচনা চলে। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল-আলম চৌধুরী পারভেজ নতুন উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, তারা একটু বড় হয়ে যাক, তখন কর আরোপ করতে পারবেন।

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিষয়ে ৩৭টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। কম্পানির করহার বছরে আড়াই শতাংশ করে আগামী তিন বছরে সাড়ে সাত শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দেয় ডিসিসিআই। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবেশী অন্যান্য দেশেও করপোরেট করহার বাংলাদেশের চাইতে অনেক কম। এ ছাড়া করপোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ কর অর্ধেক কমানো, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হলে তাতে কর সুবিধা দেওয়া, ব্যবসায়ীদের তিন কোটি টাকার ওপরে মোট আয়ের ওপর বাধ্যতামূলক ০.৫ শতাংশ কর অর্ধেক কমানো, পুরো আয়কর ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া ভ্যাটে রিফান্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে তিন মাসের পরিবর্তে একমাস করা এবং প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি জরিমানা নিচের সারির কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়ায় এর অপব্যবহারের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এই ক্ষমতা বেশি জুনিয়রের কাছে চলে গেলে অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এ ছাড়া এইচ এস কোডের (পণ্য পরিচিতি নম্বর) ভুলে জরিমানা কমিয়ে আনা, টার্নওভার করের ক্ষেত্রে ঊর্দ্ধসীমা তিন কোটি টাকা করা এবং এই হার চার শতাংশ করা, শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর চার শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া ৫০ লাখ টাকা থেকে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) না হলেও বাধ্যতামূলক নিবন্ধন করতে হচ্ছে, যা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়।

বিসিআইর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মহব্বত উল্লাহ বলেন, পাঁচ বছর আট মাস পর দাবিনামা জারি করে ব্যবসা আটকে দেওয়া হচ্ছে। অথচ তখন এনবিআরের কর্মকর্তারাই পণ্য খালাস দিয়েছেন। পরে ব্যবসা চালু করার জন্য (আনলক) বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অনলাইন করা হয়েছে, কিন্তু কে ব্যবহার করে?

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, শুধু রাজধানীর মধ্যেই নয় ঢাকার বাইরেও শিল্প বিকাশে সরকার মনোযোগী। এ জন্য রাজধানীর বাইরেও শিল্প বিকাশে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা