kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এনবিআরকে উদার হওয়ার আহ্বান ফিকি’র

যাচাই ছাড়া অডিট রিপোর্ট না নিতে ব্যাংকগুলোকে এনবিআর চেয়ারম্যানের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০২১ ২০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এনবিআরকে উদার হওয়ার আহ্বান ফিকি’র

বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরো উদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানান ফিকি’র সভাপতি রূপালী চৌধুরী। এসময় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। সভায় এনবিআরের ঊধর্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ফিকি’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রূপালী চৌধুরী বলেন, কর হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশে কী ধরনের করহার রয়েছে তা বিবেচনায় নেওয়া দরকার। এফডিআই আকর্ষণে আমরা (ফিকি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারি। এ জন্য এনবিআরের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীরা দেখবে, অন্যান্য দেশ কী করছে। কী কী সুবিধা দিচ্ছে। এটি নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ আসবে।

এ সময় তিনি রাজস্ব আয়কর ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বিষয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানান। গত বাজেটে কম্পানির পণ্য প্রসারের ব্যয়ের (প্রমোশনাল এক্সপেন্স) করমুক্ত সীমা মোট বিক্রয়মূল্যের দেড় শতাংশ বেঁধে দেওয়ায় হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, এটি নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে অনেক আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এছাড়া অগ্রিম আয়কর বেশি হওয়া, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকালে অনেক পরিবর্তন হওয়া, আয় না হলেও কম্পানির বার্ষিক বিক্রয়ের ওপর কর প্রদানের (০.৫%) বাধ্যবাধকতাসহ বেশকিছু ইস্যু তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা আমাদের বলছেন, আয় না হলে কেন কর দেব? অন্যদিকে মূল্য ঘোষণা ব্যবস্থায় দাম বেশি হলে এনবিআর গ্রহণ করে কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমে গেলে সেই দর কর্মকর্তারা গ্রহণ করতে না চাওয়া বিষয়েও নিজেদের অসন্তোষের কথা জানান ফিকি’র প্রতিনিধিরা। 

ফিকি’র সভাপতি বলেন, যারা অনিয়ম করে, তাদের ধরেন। কিন্তু গুটিকয়েকের জন্য অন্যরা কেন ক্ষতির মুখে পড়বেন? আলোচনায় কর্পোরেট করহার কমানোর দাবিও জানানো হয়। ফিকি’র সভাপতি আরো বলেন, ভ্যাট আইন শুরুতে যেভাবে ছিল, তা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। আগাম মূল্য ঘোষণা ব্যবস্থা থাকবে না বলা হলেও ইনপুট কোইফিশিয়েন্ট (সহগ) দিয়ে এনবিআর সেদিকেই গিয়েছে। অনেক জায়গায় ভ্যাট না থাকলেও নতুন করে আরোপ হয়েছে। বেজার (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) জমি কেনায় ভ্যাট ছিল না। এখন ১৫ শতাংশ দিতে বলা হচ্ছে। এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আইনে যা আছে, আমরা কি তা করছি না? জবাবে ফিকি’র সভাপতি বলেন, না। একেবারেই না। লাইন ধরে ধরে বলতে পারবো।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কিছু কৌশলও তুলে ধরা হয় ফিকি’র পক্ষ থেকে। এসময় স্ট্যান্টার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী নাসের এজাজ বিজয় নগদ লেনদেনকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যাংকে একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপরে নগদ জমায় কর আরোপ, সম্পদ করহার কমিয়ে আনা, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করা, রপ্তানিতে নগদ সহায়তার বিষয়ে বিকল্প চিন্তা করার পরামর্শ দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আমদানিতে মূল্য ঘোষণা ব্যবস্থার পরিবর্তে আগামীতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য ঠিক করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আমরা মূল্য ঘোষণা বাতিলেরই চিন্তা করছি। এ সময় ভুয়া অডিট রিপোর্ট ঠেকাতে ডকুমেন্ট ভ্যারিফিকেশনের (ডিভিএস) আওতায় অডিট রিপোর্ট যাচাই করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ডিভিএস ছাড়া কোনো অডিট রিপোর্ট দিলে তা গ্রহণ করা হবে না। ব্যাংকগুলো যাতে এটি পরিপালন করে। নইলে তা বাতিল হয়ে যাবে। অবশ্য ফিকি’র পক্ষ থেকে এ বিষয়টি পুরোদমে শুরু করার লক্ষ্যে কিছু সময় চাওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা