kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাড়বে বাজার

►করোনায় কার্গো পরিবহনে উল্লম্ফন ►আকাশপথে বিভিন্ন গার্মেন্ট পণ্য, ওষুধ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠানো হয়

মাসুদ রুমী    

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাড়বে বাজার

করোনা মহামারির বড় আঘাত লেগেছে বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্পে। সংক্রমণ রোধে মহামারির বেশির ভাগ সময় যাত্রী পরিবহন কার্যত বন্ধ ছিল। তবে ব্যতিক্রম ছিল কার্গো সেবা। করোনাকালে মেডিক্যাল সরঞ্জামসহ অন্য অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে কার্গো পরিবহনে উল্লম্ফন দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে শাহজালাল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়। এই পণ্য পরিবহনের বাজারমূল্য ছয় হাজার ৮০০ কোটি টাকা। করোনায় তা দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্য বাড়তি ব্যয়ে আমদানি-রপ্তানি করা হয় আকাশপথে। চীন, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান থেকে দেশে আসে মোবাইল ফোনসেট, গার্মেন্ট পণ্য, কাপড়, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ। বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে বিভিন্ন গার্মেন্ট পণ্য, ওষুধ, শুকনা খাবার, ফলমূল উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবজি রপ্তানি করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারির মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় মাস্কসহ অন্যান্য মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট ও ওষুধ বিদেশ থেকে দেশে নিয়ে এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা। এই প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায় লাভের কথা চিন্তা না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। ব্যবসায় ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের কার্গো ফ্লাইট অব্যাহত রেখেছে। তাদের এই কর্মচিন্তা প্রশংসনীয় উদাহরণ।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এয়ার কার্গো পরিবহনে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে অস্ট্রেলিয়া। গত মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা জানান।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া সরকার মিসর, সোমালিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক, ইয়েমেন ও বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এয়ার কার্গো পরিবহনে আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরে তত্ত্বাবধানে বেবিচক ২০১৮ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। সন্তোষজনক পরিদর্শনের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

করোনায় বাংলাদেশে রপ্তানিযোগ্য পণ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার কার্গোর চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘করোনাকালে কার্গো মার্কেটে ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। বেশির ভাগ এয়ারলাইনস লোকসান পোষাতে কার্গোতে ব্যাপক জোর দিয়েছে। দেশীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও কার্গো পরিবহন বাড়িয়েছে। এতে এয়ারলাইনগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে কার্গো নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এখন আর তৃতীয় দেশ হয়ে পণ্য পাঠাতে হবে না। আমাদের ব্যবসায়ীরা সরাসরি পণ্য পরিবহন করতে পারবেন। এতে কার্গো খাতে আরো প্রবৃদ্ধি হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সব এয়ারলাইনস তাদের প্যাসেঞ্জার ফ্লাইটে করে কার্গো পণ্য পরিবহন করে। ডেডিকেটেড কার্গো উড়োজাহাজে পণ্য পরিবহন করে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো। প্রতিবছর এয়ার কার্গোর চাহিদা ৩০ শতাংশ করে বাড়ছে। পৃথিবীর অনেক দেশে ওয়ানওয়ে কার্গো চললেও বাংলাদেশে বোথওয়ে কার্গো চলে। এ কারণে বাংলাদেশ এই ব্যবসার জন্য খুবই সম্ভাবনাময় বাজার।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মালপত্র পরিবহন করে এমিরেটস, কাতার, কুয়েত, ইতিহাদ, মালয়েশিয়া, সাউদিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, চায়না, ওমান এয়ারলাইনসসহ আরো কয়েকটি বিমান সংস্থা।

অস্ট্রেলিয়াতে সরাসরি কার্গো সেবা চালুতে দেশের রপ্তানিকারকরা উপকৃত হবে উল্লেখ করে বিজিএমইএর এয়ারপোর্ট সেল কমিটির চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে আমাদের অনেক ক্রেতা আছে। অন্য দেশ হয়ে তাদের কাছে পণ্য পাঠাতে ব্যয় বেশি হতো। এখন সরাসরি কার্গো সেবা চালু হলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে কার্গো পণ্য পরিবহন অনেক বেড়েছে। রপ্তানি কার্গো ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে। পণ্য খালাসের দেরি কিছুটা কমে এসেছে। সঠিক সময়ে পণ্য খুঁজে পেতে আমরা নিজেদের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মেসেজ পাঠাচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা