kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

আইসক্রিমের বাজারে মন্দা

► ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলার কারণে বিক্রি কমেছে ► ব্র্যান্ডহীন প্রতিষ্ঠানগুলো করোনার শুরুতেই বন্ধ হয়ে গেছে ► দেশে বাজারের আকার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ► বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ

সজীব আহমেদ    

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইসক্রিমের বাজারে মন্দা

করোনায় ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলার প্রবণতায় শখের আইসক্রিম খাওয়া প্রায় বন্ধই রেখেছে শিশু বা তরুণ-তরুণীরা। ফলে ধস নেমেছে এই বাজারে। মহামারি কিছুটা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও বিক্রি বাড়ছে না এই খাবারের। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আইসক্রিম বিক্রি ৭০ শতাংশ কমেছে। বিক্রি না হওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজার থেকে তুলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে খাতসংশ্লিষ্টরা। এমনকি করোনার ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত এই খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও দেখছেন না তাঁরা।

জানা যায়, গত বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত আইসক্রিমের বিক্রি প্রায় ছিলই না। যদিও এই সময়ের মধ্যে আইসক্রিমের ব্যবসা জমজমাট থাকে। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের দিন লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এই এক দিনেই তিন মাসের সমপরিমাণ আইসক্রিম বিক্রি হয়।

আইসক্রিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য মতে, আইসক্রিম উৎপাদনে জড়িত দেশীয় আটটি ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠান। আইসক্রিমের বাজারের আকার দুই হাজার কোটি টাকা। ঠাণ্ডা হওয়ায় এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে গ্রীষ্মকালে। এপ্রিল, মে ও জুন—এই তিন মাস আইসক্রিমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। ফেব্রুয়ারি, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই চার মাস অফ-পিক মৌসুম। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতকালে আইসক্রিম তেমন একটা বিক্রি হয় না। ১০-২৫ বছর বয়সী ভোক্তাদের মধ্যে আইসক্রিম বেশি জনপ্রিয়। প্রতিবছরই ১৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল এই খাতে। কিন্তু করোনার ধাক্কায় প্রবৃদ্ধি তো দূরের কথা, আইসক্রিম বিক্রির হার প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছে। ফলে করোনার প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইসক্রিম খাত।

সুপারশপ মীনা বাজারের জেনারেল ম্যানেজার অপারেশন শামীম আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার আগের তুলনায় করোনাকালে আইসক্রিম বিক্রি অনেক কমে গেছে। মীনা বাজারে মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আইসক্রিম বিক্রি কমেছে ৪৬ শতাংশ।’ বাজার সারাবেলা সুপারশপের ইনচার্জ আনিছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা শুরুর পর থেকে আইসক্রিমসহ ঠাণ্ডাজাতীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি অনেক কমে গেছে। আমাদের এই সুপারশপে আইসক্রিম বিক্রি ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।’

ইউরোমনিটরের তথ্য মতে, বৈশ্বিক জিডিপির ০.০৫৩ শতাংশ আসে আইসক্রিম খাত থেকে। আর বাংলাদেশে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ০.০৬৪ শতাংশ। গত তিন বছরে আইসক্রিমশিল্পে প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। আইসক্রিমের বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হচ্ছে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ইগলু। বর্তমানে দেশীয় আইসক্রিমের বাজারের ৪০ শতাংশ ইগলুর দখলে।

ইগলু আইসক্রিম অ্যান্ড মিল্ক ইউনিটের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার সুমিত চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনায় আইসক্রিম প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আইসক্রিমের বিক্রি ৬০ শতাংশ কমে গেছে। আইসক্রিমের প্রায় ৭০ শতাংশই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, পার্কে ও বিভিন্ন মেলায় বিক্রি হয়। যদিও পার্ক সীমিত আকারে খুলেছে কিন্তু আইসক্রিম বিক্রি আগের মতো হচ্ছে না। বর্তমানে এই খাতে প্রায় এক লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। আইসক্রিম বিক্রি বন্ধ হওয়ায় এই খাতের সবাই এখন হুমকির মুখে পড়ে গেছে। করোনার শুরুতেই আইসক্রিমের ছোট ছোট অনেক প্রতিষ্ঠন বন্ধ হয়ে গেছে। আর্থিক ব্যাকআপের কারণে ব্র্যান্ডের আইসক্রিম উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চালু রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ইগলু আইসক্রিম প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।’ তবে করোনার ভ্যাকসিন চলে এলে আইসক্রিমের বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদী। বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পোলার আইসক্রিম। বর্তমানে পোলারের মার্কেট শেয়ার ৩৭ শতাংশ। ১৯৮৬ সাল থেকে পরবর্তী এক দশক দেশের আইসক্রিমের বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড ছিল পোলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসক্রিমের বিক্রি ব্যাপকহারে কমে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে এই খাতে। দৃশ্যমান কোনো সমাধান না থাকায় অনেক উৎপাদনকারী আইসক্রিমের কাঁচামাল আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের মধ্যে আইসক্রিম খাত না থাকায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা