kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

ব্যাপক সম্ভাবনা, তবুও এগোতে পারছে না বীমা

এ এস এম সাদ    

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাপক সম্ভাবনা, তবুও এগোতে পারছে না বীমা

বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাস করে একজন শিক্ষার্থীর পছন্দের কর্মস্থল থাকে ব্যাংক খাত। তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় ও বেশি বেতনের চাকরির সুযোগ থাকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে। ফলে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জীবন বৃত্তান্তের আবেদনও ব্যাংকে বেশি পড়ে। কিন্তু ব্যাংক খাতের আগে যাত্রা শুরু করেও পিছিয়ে পড়েছে দেশের বীমা খাত।

ব্যাংক খাতের মতো আকর্ষণীয় ও সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় বীমা পেশায় কম ঝুঁকছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করা শিক্ষার্থীরা। বীমা খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের বীমা খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও কমপানিগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে দেশের দু-একটি কমপানি তুলনামূলকভাবে সঠিক নিয়মে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। কিন্তু অন্য কমপানিগুলোর নামে অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ করে গ্রাহকরা। ফলে দেশে বীমা খাত নিয়ে একটা বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায় জনমনে। এই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে খুব বেশি আগ্রহ দেখা যায় না সদ্য পড়ালেখা শেষ করা শিক্ষার্থীদের মাঝে। এদের একজন আইনুল আবির। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে বিবিএ শেষ করে সিটি ব্যাংকে হিউম্যান রিসোর্স (এইচআর) বিভাগে চাকরি করছেন।

তিনি জানান, বীমা খাতে চাকরি করার আগ্রহ কখনো হয়নি। কারণ বীমা নিয়ে সব সময় একটা বিরূপ মন্তব্য পাওয়া যায় মানুষের কাছ থেকে। আর বীমা খাতে বেতনের অনিশ্চয়তাও আছে, তাই ব্যাংকেই প্রথম থেকে চেষ্টা করেছি। আইনুল আবিরের মতো এই রকম হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিবছর ব্যাংক খাতে চাকরির আবেদন করলেও বীমা খাতে তুলনামূলকভাবে কম। আবার অন্যান্য খাত যেমন দেশে পুরো জিডিপিতে একটা ভূমিকা রাখতে পারলেও জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা মিলিয়ে জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে জীবন বীমার অবদান দশমিক ৭ শতাংশ এবং সাধারণ বীমার অবদান দশমিক ২ শতাংশ। আবার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। 

বীমা খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একজন শিক্ষার্থীর মনে বীমা খাত নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়নি। জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার ও উপসচিব আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বীমা সুবিধা সমপর্কে সাধারণ মানুষের সঠিক ধারণা নেই। ব্যাংক কিংবা শেয়ারবাজার সেক্টরে মানুষের এক রকমের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ এই সেক্টরগুলোর চাকরিতে আর্থিক নিশ্চয়তা আছে। ফলে কম্পানি কোনো রকমের ক্ষতির মধ্যে পড়লেও কর্মীদের বেতন ঠিকমতো দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু বেসরকারি বীমা কম্পানিগুলোর চাকরিতে কর্মীদের বেতন দেওয়া হয় কমিশনের ওপর। অর্থাৎ যে যত মানুষকে বীমা করাতে সক্ষম তাঁর বেতনও তত বেশি। তাই বীমা খাতের চাকরি অনেকটা ঝুঁকির বলেই সদ্য পড়ালেখা শেষ হওয়া শিক্ষার্থী এই পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান না।

জীবন বীমা করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার সেখ কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আর্থিক খাত নিরসনে বীমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাইরের দেশে বীমা খাত অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী। তাই সেসব দেশের তরুণরাও বীমা খাতে ক্যারিয়ার গড়ে। বীমা খাতকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য এর মধ্যে সরকার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কার শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তদারকি ও নজরদারি আরো কার্যকরভাবে পালন করা প্রয়োজন। বীমা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয় বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স একাডেমি। এতে বছরে ৩০-৩২টি কোর্সে প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতি কোর্সে প্রায় ৫০-৬০ জন প্রার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। দেশের প্রায় সব বীমা কম্পানির কর্মকর্তা ও এজেন্ট ডিপ্লোমা ও অন্য সব ধরনের প্রশিক্ষণ লাভ করে থাকে। 

তবে এত খারাপের মধ্যেও বেশ কয়েকটি ভালো কম্পানিতে পেশা হিসেবে বীমা খাতে ক্যারিয়ার গড়তেও দেখা যায়। প্রায় ৬৮ বছর ধরে দেশে বীমা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে মেটলাইফ ইনস্যুরেন্স কম্পানি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কম্পানিতে প্রায় ৪৯ হাজার কর্মী কাজ করছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৫০ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন ও ১৬ হাজার এজেন্ট কাজ করছে। ২০১৯ সালে কম্পানিটির ১০০ জন আর্থিক সহযোগীর (এজেন্ট) গড় মাসিক কমিশন ছিল ৩৮ হাজার। এ ছাড়া সেরা ৫০ জন ভালো পারফর্মারদের জনপ্রতি মাসিক গড় আয় ৩৩ লাখ টাকা। কম্পানিতে বছরে প্রায় ২০০ জন ফিনানশিয়াল অ্যাসোসিয়েট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা