kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

প্রণোদনা কাজে লাগানো গেলে ঘুরে দাঁড়াবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প

মো. মোশতাক হাসান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)

সজীব আহমেদ    

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রণোদনা কাজে লাগানো গেলে ঘুরে দাঁড়াবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প

‘আমরা উদ্যোক্তা সৃষ্টি করি। প্রতিবছর সাড়ে ১৮ হাজার উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গত কয়েক বছর আগে এই প্রশিক্ষণ ছিল নিম্নমানের; এখন যারা উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেয় তাদের আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই খাতে বাজেটও তিন গুণ বাড়ানো হয়েছে। তিন দিনের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পাঁচ দিন হয়েছে। এখন আগের চেয়ে প্রচুর উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে।’ সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসান।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে। তাদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন প্রণোদনার ২০ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করেন, তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পের উদ্যোক্তারা একটি টাকাও পাবে না। কারণ সাথে সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, এক বছর ভালো ট্রানজেকশন করতে হবে, অডিট করাতে হবে—এমন বিভিন্ন কঠিন শর্ত দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। পরে আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে বলেছিলাম, আপনারা কারো সাথে কথা না বলে সার্কুলার জারি করেছেন। আমাদের কুটির, ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তারা তো এখান থেকে ঋণ পাবে না। এরপর আমি ১৬ দফা সাজেশন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছিলাম। এফবিসিসিআই বলছে, বিসিকের যে সাজেশন সেটাই আমাদের সাজেশন। পরে এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করেছে, সেগুলো এখনো অনুমোদন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আগে শিল্পঋণের কোনো মনিটরিং ছিল না। আমি প্রণোদনার প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে একটি মনিটরিং বডি তৈরি করেছি। ৬৪ জেলায় ঋণ মনিটরিং কমিটি করেছি। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আট হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে এবং এক হাজার কোটি টাকা ঋণের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অভিযোগ আছে, এখনো অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছে না। কারণ আমাদের বিসিকের লোকজন সব জায়গায় সমান দক্ষ না। বিসিকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকে এখনো ডাটাবেইস তৈরি করে দিতে পারেনি। আমি বলে দিয়েছি দ্রুত ডাটাবেইস তৈরি করে দিতে। আমি বিসিক জেলাপ্রধানদের সাথে প্রতিনিয়ত মিটিং করছি দ্রুত ডাটাবেইস তৈরি করে ডিসির মিটিংয়ে উপস্থাপনা করার জন্য, যাতে সহজে তারা ঋণ পায়।’

তিনি জানান, বিসিকের উল্লেখযোগ্য সেবাগুলোর মধ্যে আছে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, শিল্প প্লট দেওয়া, শিল্প তৈরিতে সহায়তা করা, মহিলা উদ্যোক্তা তৈরি করা, বিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া, শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়া, এক্সপোর্ট ও ইমপোর্টের জন্য সুপারিশ করা, দেশে-বিদেশে মেলার আয়োজন করাসহ বিভিন্ন রকমের সেবা দেওয়া।

মো. মোশতাক হাসান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আরো তিন হাজার টাকার যুব ঋণের প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যাদের বয়স ১৮-৩৫ বছরের মধ্যে, তারা ২০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে। এটার কোনো মর্টগেজ লাগবে না। এই ঋণ বিতরণের জন্য আমরা কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাথে এমওইউ স্বাক্ষর করেছি এবং জেলার অফিসগুলোতে আবার ডাটাবেইস তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছি। এই ঋণ পেয়ে আরো নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, তাদের জন্য আমরা বিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা দেব ৬৪ জেলায়। ঋণের প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হলে বিসিক ছাড়া বাংলাদেশে ভালো আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।’

বিসিকের দুই হাজার একর জমিতে ৭৬টি শিল্পনগর আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আইনও পরিবর্তন করেছি। আইনের ভেতরে স্থানীয় বিনিয়োগ, বিদেশি বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র, কুটির শিল্প, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প আছে। এই আইন পাস হলে আমাদের প্রত্যেকটি শিল্পনগরে বন্ডেড ওয়্যারহাউস হবে। করোনার মধ্যেও আমাদের ৭৬টি শিল্পনগর চালু ছিল।’

মেলা না হওয়ায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মেলানির্ভর উদ্যোক্তারা বসে আছেন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি রিস্ক নিয়ে করোনার মধ্যেও গত মাসে একটি মেলা করেছি। বিজয় দিবস উপলক্ষে উত্তরায় আরেকটি মেলা করেছি। প্রণোদনার প্যাকেজ আসায় এবং আমরা মেলা শুরু করার কারণে উদ্যোক্তারা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ব্যবসা বন্ধ থাকা উদ্যোক্তারাও ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার প্যাকেজগুলো যদি আমরা সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারি, তাহলে অবশ্যই এই ঋণের সুবিধা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা পাবে। হস্তশিল্প পণ্য বিশ্বের প্রায় অর্ধশতাধিক দেশে যাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা