kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস

রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক   

৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

কভিডের ধাক্কায় নেতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দিয়েই শেষ হলো ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস। এ সময় আয় হয়েছে এক হাজার ৯২৩ কোটি ইউএস ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এক হাজার ৯৩০ কোটি ডলার বা ০.৩৬ শতাংশ কম।

এ আয় নির্ধারিত কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২.২৫ শতাংশ কম। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল সোমবার পণ্য রপ্তানি আয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারেনি দেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত তৈরি পোশাক। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৫৫৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এই আয় গত অর্থবছরের তুলনায় ২.৯৯ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে ৪.১২ শতাংশ।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার হাজার ১০০ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য খাতের রপ্তানি আয় হয় তিন হাজার ৩৬৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৯৬৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই ছয় মাসে আয় এসেছে এক হাজার ৯২৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২.২৫ শতাংশ কম। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল এক হাজার ৯৩০ কোটি ২১ লাখ ডলার। সেই হিসাবে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.৩৬ শতাংশ। এদিকে একক মাস হিসেবে ডিসেম্বরেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৬.১১ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসে আয় হয়েছে ৩৩০ কোটি ৯৮ ডলার। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ছয় মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৮৫২ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩.৯০ শতাংশ। তবে ওভেন পোশাকে আয় কমেছে ১০.২২ শতাংশ, এ সময় আয় হয় ৭০১ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া ওভেনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ১৪.৩৯ শতাংশ।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাট ও পাটজাত পণ্য পণ্যের আয় বেড়েছে ৩০.৫৬ শতাংশ, আয় হয়েছে ৬৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার। হোম টেক্সটাইলে আয় বেড়েছে ৪৭.৯৩ শতাংশ, আয় হয়েছে ৫৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। প্রকৌশল যন্ত্রাংশ আয় বেড়েছে ৭৭.৩৫ শতাংশ, আয় হয়েছে ছয় কোটি ৩১ লাখ ডলার। ওষুধে আয় বেড়েছে ১৭.১৫ শতাংশ আর আয় হয়েছে আট কোটি ৬৩ লাখ ডলার। হস্তশিল্প থেকে আয় এসেছে এক কোটি ৬৫ লাখ ডলার। আর আয় বেড়েছে ৪৮.৭০ শতাংশ এবং বাইসাইকেলে আয় হয়েছে ছয় কোটি ৪৭ লাখ ডলার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩.৯২ শতাংশ। 

এদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যেসব পণ্য রপ্তানি আয় কমেছে এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে চিংড়ি মাছের আয় কমেছে ১০.৪২ শতাংশ আর আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, শাক-সবজিতে আয় কমেছে ১০.২৬ শতাংশ আর আয় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। সিরামিক পণ্যে আয় কমেছে ১৬.২৬ শতাংশ আর আয় হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার। চামড়ায় আয় কমেছে ১৬.৮৮ শতাংশ আর আয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। চামড়ার জুতায় আয় কমেছে ১.৯৮ শতাংশ আর আয় হয়েছে ২৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে আয় কমেছে ৬.২৪ শতাংশ আয় হয়েছে ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার প্রথম ধাক্কায় যেভাবে দেশের রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছিল সেই তুলনায় দ্বিতীয় ধাক্কায় তেমনটা প্রভাব পড়েনি। প্রধান বাজারগুলোতে সীমিত আকারে রপ্তানি হওয়ার ফলে এমনটা হয়েছে। তবে আগামী দিনে আরো ভালো হবে, তা প্রত্যাশা করা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা