kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

করোনা সনদ ছাড়া এলো আরো ২৬৫ জন

নিষেধাজ্ঞা না মানা এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে বেবিচক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ২২:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিষেধাজ্ঞা না মানা এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে বেবিচক

নিষেধাজ্ঞার পরও করোনা সনদ ছাড়া যাত্রী আসা থামছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশনা জারির দিনেও করোনা সনদ ছাড়া ২৫৯ জন যাত্রী এনেছে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস। নির্দেশনা জারির পর যেসব এয়ারলাইনস তা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত ৫ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বেবিচকের নির্দেশনা না মানা এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আর এজন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলথ ডেস্কের কাছে তথ্য চেয়েছে বেবিচক। যেসব এয়ারলাইনস একাধিকবার নির্দেশনা অম্যান্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কোনো এয়ারলাইনসে করোনা সনদ ছাড়া যাত্রী আসেনি বলে জানা গেছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাববন্দর সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২৩টি ফ্লাইটে চার হাজার ৫৬ জন যাত্রী এসেছেন। এসব ফ্লাইটে আগত মোট যাত্রীদের মধ্যে ছয়টি ফ্লাইটের আরো ২৬৫ জনকে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি ও আশকোনা হজ ক্যাম্পের সরকারি দুটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। ছয়টি ফ্লাইটের মধ্যে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রিয়াদ থেকে আসা সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটেই ২৫৯ জন যাত্রী করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া আসেন। তারা সকলেই প্রবাসী শ্রমিক। বাকি পাঁচটি ফ্লাইটের মধ্যে জেদ্দা থেকে আসা বিজি ৪০৩৬ ফ্লাইটে ২ জনকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে পাঠানো হয়। আবুধাবি থেকে আগত (৩এল০৬৩) ফ্লাইটের একজনকে দিয়াবাড়িতে, দোহা থেকে আগত (কিউআর৬৩৮) ফ্লাইটের একজনকে দিয়াবাড়িতে, দাম্মাম থেকে আগত (বিজি৪০৫০) ফ্লাইটের একজনকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে এবং বাহরাইন থেকে আগত (জিএফ ২৫০) ফ্লাইটের একজনকে হজ ক্যাম্পের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠানো হয়।

বেবিচকের নির্দেশনা না মানা এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত আছে জানিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল আহসান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া যাতে এয়ারলাইনসগুলো যাত্রী না আনে সে ব্যাপারে বিভিন্ন সময় সতর্ক করেছি। এরপর আমরা জরিমানা শুরু করেছি, এরপর কমা শুরু করেছে। তারপরও কেউ কেউ এক-দুইজন আনছে, তাদেরকেউ আমরা ছাড় দিচ্ছি না। সৌদি এয়ারলাইনসের যে ফ্লাইটে ২৫৯ জন প্রবাসীকর্মী এসেছে, সনদ ছাড়া তাদের গ্রহণ করার ব্যাপারে হাইকমিশনের একটি চিঠি ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এটির ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সৌদি এয়ারলাইনস মুক্ত নয়।

তিনি বলেন, এই বিষয়টি আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতে এখনো পেন্ডিং রেখেছি। প্রত্যেকটি এয়ারলাইনসকেই আমরা জরিমানার আওতায় নিয়ে আসছি। পাশাপাশি ফ্লাইট বাতিলের ব্যাপারের বেবিচক সদর দপ্তর থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জানতে চাইলে শাহজালালে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, মঙ্গলবার আর কোনো যাত্রী করোনা সনদ ছাড়া আমরা পাইনি। ৫ ডিসেম্বরের পর থেকে যেসব এয়ারলাইনস বেবিচকের নির্দেশনা অম্যান্য করেছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কাছে ১৭ ডিসেম্বর তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা এবিষয়ে কাজ করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা