kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রয়োজন নতুন প্রণোদনা

অনলাইন ডেস্ক   

১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রয়োজন নতুন প্রণোদনা

গতকাল প্রণোদনা প্যাকেজ বিষয়ে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি : লুৎফর রহমান

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকারকে নতুন করে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে আরো বেশি নজর দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অনুকূল পরিবেশ দিতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত কভিড-১৯ মোকাবেলা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজ বিষয়ে মতবিনিময়সভায় এসব পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দারিদ্র্য নিম্নমুখী রাখা সম্ভব হয়েছে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার মূল প্রবন্ধ (সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ) উপস্থাপন করেন।

এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট কার্যকরভাবে মোকাবেলা এবং অর্থনীতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব দূর করে সমৃদ্ধির ধারা ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনা প্রায় এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এর বাস্তবায়ন এখনো চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাবে সে সময় অনেকেই উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন ছাড়া নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। পদ্মা সেতু না হওয়া নিয়ে অনেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন, কিন্তু সব ষড়যন্ত্র এবং বাধা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পুরো কাঠামো এখন দৃশ্যমান। দেশের আর্থিক সক্ষমতা আছে বলেই এত বড় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, ‘জুন জুলাই মাসে আমরা দেখেছিলাম দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে গতি ফিরে এসেছিল। কিন্তু এরপর করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ আসার পর নভেম্বর থেকে আমাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য নতুন প্রণোদনা প্রয়োজন। কারণ কিছু খাত এখনো সচল হয়ে ওঠেনি। তবে আশার কথা হলো, সরকার এসব ব্যাপারে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখছে। পাশাপাশি সময় অনুযায়ী দরকারি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা করছে না।’

নিহাদ কবির আরো বলেন, ‘আমরা এখনো অনুকূল পরিবেশে পৌঁছাতে পারিনি। এই যে অনুকূল পরিবেশটা চাচ্ছি এ জন্য সরকারকে নীতি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরণ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রম অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য যথেষ্ট সহযোগিতা দিতে হবে।’

ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ড. সাজ্জাদ জহির বলেন, ‘করোনা মহামারিতে আমরা দেশের সবাইকে সহায়তার আওতায় আনতে পারিনি। কেন এই আর্থিক সহায়তা ১২০টি উপজেলাতে সীমিত, সেটা নিয়ে আরো একটু ভাবা দরকার। পেন্ডামিক জাতীয় ঘটনাগুলোতে সবার প্রত্যাশা থাকে দেশের দরিদ্রতম অংশকে সহায়তার আওতায় আনতে হবে।’

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের ৪৯২টি উপজেলা সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে আমরা ৩০ শতাংশ সক্ষমতা অনুযায়ী কাভারেজ দিতে পেরেছি। এখন ১১২টি উপজেলায় শতভাগ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের যে তালিকা করা হয়, সেটা এনআইডি দিয়ে করা হচ্ছে। সুতরাং এক ব্যক্তি দুইবার সহায়তা পাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা