kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রণোদনায় এলোমেলো বাজেটের হিসাব

সজীব হোম রায়    

৮ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রণোদনায় এলোমেলো বাজেটের হিসাব

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় এলোমেলো হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। এখন এই প্রণোদনা প্যাকেজের জন্যই সরকারকে অতিরিক্ত সুদের ঘানি টানতে হবে। কারণ ২১ প্যাকেজের মধ্যে সাতটিতেই সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার। এতে সরকারের ব্যয় হবে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা। চলতিসহ মোট তিন অর্থবছরে এ ব্যয় সরকারকে মেটাতে হবে। ‘কভিড-১৯ মোকাবেলায় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্যাকেজই শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। চলতি ডিসেম্বর মাসেই প্রণোদনা প্যাকেজের ৯০ শতাংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্যাকেজগুলো মূলত দুইভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথমত, বাজেট বরাদ্দ থেকে। এ ক্ষেত্রে সরকার বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত বাজেট সহায়তা থেকে প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি বিশেষ বরাদ্দ থেকে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। ২১ প্যাকেজের ১৪টির ক্ষেত্রেই সরকার বাজেট বরাদ্দ থেকে অর্থ ব্যবহার করেছে। এই ১৪ প্যাকেজে বাজেট থেকে সরকার সর্বমোট ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বাকি সাতটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে।

ব্যাংক থেকে প্যাকেজ বাস্তবায়নে ৮৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। প্যাকেজগুলোর বেশির ভাগ ঋণনির্ভর। আর ঋণ মানেই সুদ ব্যয়। ২১টি প্যাকেজের মধ্যে সাতটি প্যাকেজই সুদ খাতে ভর্তুকির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সাতটি প্যাকেজ হলো— তৈরি পোশাকসহ ওপ্তানিমুখী খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল; ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ওয়ার্কি ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা প্রদান; ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত কুটির শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য স্বল্প সুদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সুবিধা প্রদান; পাঁচ হাজার কোটি টাকার ওপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামের ঋণ সুবিধা চালু করা; তিন হাজার ২২০ কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ; কৃষি ভর্তুকির পরিমান বৃদ্ধি (৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) এবং কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তি সহজীকরণের লক্ষ্যে কৃষি পুনরর্থায়ন স্কিম গঠন (পাঁচ হাজার কোটি টাকা)। এসব প্যাকেজে সরকার সুদ ভর্তুকি দেবে। এতে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই ১২ হাজার কোটি টাকা আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে।

বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৫ শতাংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে সুদ পরিশোধে। এখন এই হার আরো খানিকটা বাড়বে। এরই মধ্যে ছয় বছরের ব্যবধানে সরকারের সুদ ব্যয় ১১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার চলতি অর্থবছরসহ আগামী দুই অর্থবছরে ঋণের সুদ খাতেই দুই লাখ ২৫ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করেছে। এর মধ্যে চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সুদ ব্যয় হবে ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৭৪ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৮৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা সুদ ব্যয় করবে সরকার।

চলতি অর্থবছরে শুধু দেশীয় ঋণের সুদ খাতে পরিশোধ করতে হবে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। এর পরবর্তী দুই অর্থবছরে (২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩) যা হবে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ৮০ কোটি এবং ৭৮ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে একই সময় বিদেশি ঋণের সুদ ব্যয় হবে (তিন অর্থবছরে) যথাক্রমে পাঁচ হাজার ৫৩০ কোটি, ছয় হাজার ৮১০ কোটি এবং আট হাজার ৯০ কোটি টাকা।

প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য এই সুদ ব্যয়ের হিসাবে বাড়তি চাপ পড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা