kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিরিজ সংলাপে বক্তারা

কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ

করোনায় কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাসহ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্যাকেজের সুবিধা নিতে পারেন, সে জন্য সরকারকে মনিটরিং বাড়াতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আয়োজিত ‘কভিড-১৯ মোকাবেলা এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজ’ বিষয়ে সিরিজ মতবিনিময়সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। পাশাপাশি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রয়োজনে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানান। প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস মার্সি মিয়াং টেমবোন, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান ও বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘এসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও সেই প্রণোদনা অর্ধেকের কাছেও পৌঁছেনি। এদিকে নজর দেওয়া দরকার। ব্যাংকগুলো বড় গ্রাহকের স্বার্থ দেখছে। কিন্তু ছোটদের দিকে খেয়াল দিচ্ছে না। কারণ এখানে ব্যাংকের মুনাফা কম।’

মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘জনগণের জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা সার্বক্ষণিক মনিটর করছেন তিনি। সেকেন্ড ওয়েভের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতেও একই ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে।’

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাতে তা বাংলাদেশ পায়, সে জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান আছে।’ বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস মার্সি মিয়াং টেমবোন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে দুটি দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রথমত, শ্রমিকদের সহায়তা করতে হবে। বিশেষ করে, পোশাক খাতের শ্রমিকসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের সব ধরনের সহায়তার আওতায় আনতে হবে। এতে তাঁদের কর্মসংস্থান টিকে থাকবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে হবে।’

জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের পাশে আছে। জাপান সব সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে আসছে। চলতি অর্থবছরেই জাপান প্রথমবারের মতো বাজেট সহায়তা দিয়েছে। করোনাকালেও নানা ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ‘আরো একটি করোনার ধাক্কা আসছে। এ নিয়ে শঙ্কিত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যে ইউএসএতে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ, জার্মানিতে ১০ শতাংশ, জাপানে ২৮ শতাংশ, ইতালিতে ৩০ শতাংশ, কানাডায় ৩০ শতাংশ ও স্পেনে ৬ শতাংশ কমেছে। পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্বল্প সুদে প্যাকেজের আওতায় ঋণ দরকার।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাকেজ ঘোষণার পর ৪ শতাংশ ফার্ম পুনরুদ্ধার হয়েছে, ২৯ শতাংশ হতে পারেনি। তাই ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের দিকে নজর দিতে হবে।’

বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এখন তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে এসএমই উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে হবে।’ সিরিজ মতবিনিময়সভার প্রথম দিনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং অর্থনীতির সামগ্রিক চাহিদা ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা’।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা