kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

গৃহস্থালির সেবা কাজের স্বীকৃতি

বাণিজ্য ডেস্ক   

১২ নভেম্বর, ২০২০ ০৯:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৃহস্থালির সেবা কাজের স্বীকৃতি

নারীর গৃহস্থালি সেবামূলক কাজকে হিসাবে আনা কঠিন না হলেও তা মূল্যায়িত না হওয়ার জন্য স্বীকৃত পদ্ধতির অভাবকে কারণ হিসেবে দেখালেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম। তবে স্বীকৃত পদ্ধতি পেলে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তার স্বীকৃতি মিলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা : গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি’ বিষয়ে ওয়েবিনারে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।

ড. শামসুল বলেন, ‘পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে গৃহস্থালির কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমাজের বিরাট একটি অংশ নিয়োজিত এ কাজে। প্রধানমন্ত্রীও একবার বলেছিলেন, এ কাজের মূল্যায়ন করা যায় না? বিষয়টি তিনি অবহিত।’

তিনি বলেন, ‘এটার মূল্যায়ন হওয়া উচিত। কিন্তু কিভাবে অন্তর্ভুক্ত করব, এখানে এসেই আলোচনা শেষ হয়ে যায়। স্বীকৃত কোনো পদ্ধতি আমাদের হাতে আসেনি। জাতিসংঘ বা আমরা যদি নীতিগতভাবে একমত হই, তখন এটি মূল্যায়ন করা যাবে।’ গৃহস্থালি কাজ দেশের জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয় না বলে নারীদের বিশাল অংশের কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘ঘরের কাজে নারীরা যে সময় ব্যয় করেন সেটা যদি বাইরের কাজে করেন, সেটার মূল্য হবে বাইরে যে কাজ করা হয়, তার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি।’

অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. হেলাল উদ্দিন লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরের নারী-পুরুষের সময় ব্যয় নিয়ে সংস্থাটির এক সমীক্ষা তুলে ধরে জানায়, ২০১৬ সালে নারীরা ৭.৭৮ ঘণ্টা গৃহস্থালির মজুরিবিহীন সেবামূলক কাজ করেছেন, সেখানে পুরুষরা করেছেন ১.১ ঘণ্টা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন বলেন, গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন না হওয়ায় পুরুষও পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে তৈরি হচ্ছেন না।

মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেন, ‘পুরুষরা গৃহস্থালির কাজ করতে গেলে মনে করতেন, গ্রামের মানুষরা তাঁকে টিটকারি দেবে, তাঁদের গ্রহণ করা হবে না। তাঁরা যদি দরিদ্র শ্রেণির হন, এই কাজে যোগদান করতে পারবেন না। এখন অনেক ক্ষেত্রে এই চিন্তাটার পরিবর্তন আসতে শুরু করছে।’

নারীর ঘরের কাজের মূল্যায়নের আলোচনায় পুরুষদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণের তাগিদ দেন অভিনেত্রী-শিক্ষক ত্রপা মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আর কত দিন আমরাই আমাদের কথা বলব? এখানে পুরুষদের কথা বলতে হবে। পুরুষরা শুধু শুনবেন, আর বাড়িতে গিয়ে একই কাজ করবেন, তাহলে পরিবর্তনটা কখনোই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।’ নারী ও পুরুষের কাজের ভিন্নতা নিয়ে সমাজের মানসিকতার পরিবর্তনে জোর দেন তিনি।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, গৃহস্থালির কাজের স্বীকৃতি বলতে বোঝানো হচ্ছে নারী যে গৃহস্থালির কাজগুলো করছেন, নারীর অবস্থান তৈরি করা, সমাজে তাঁর কাজের মূল্য পাওয়া। গণমাধ্যমে নারীর গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়নের বিষয়ে প্রচারণার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র করেসপনডেন্ট শেহাজ তানভীর সিন্ধুর সঞ্চালনায় ওয়েবিনারটিতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন লালমনিরহাট জেলার লাইজু বেগম ও গাইবান্ধার লাকি বেগম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা