kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনে সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ

জিএসপি ফেরাতে নতুন ‘মিশন’

জোর দিতে হবে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে

এম সায়েম টিপু    

১১ নভেম্বর, ২০২০ ১০:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিএসপি ফেরাতে নতুন ‘মিশন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় ও ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় ফিরে আসায় অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশটির বাজারে স্থগিত থাকা জিএসপি সুবিধা ফিরে ফেতে আবারও দর-কষাকষি করবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।

বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে জো বাইডেনের উদারনীতির কারণে বাংলাদেশের একক শীর্ষ রপ্তানির দেশ যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি পুনর্বিবেচনায় নিতে পারে। তবে এ জন্য এখনই অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালক ডাব্লিউটিও সেল মো. হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিএসপি ফিরে পেতে সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ। আগামী ডিসেম্বরে জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভে (ইউএসটিআর) একটি বৈঠক আছে। ওই বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওঠাতে না পারলেও নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর জানুয়ারিতে আমরা পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করব।’

হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জো বাইডেনের নতুন প্রশাসন আগামী ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরই মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা বাংলাদেশের জিএসপি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।’

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, জো বাইডেনের সরকার প্রাথমিকভাবে দেশটির জনগণের মৌলিক অধিকারনির্ভর কাজগুলোতে জোর দিলেও বিশ্ব মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার নিয়েও তারা সতর্ক থাকবে। বাংলাদেশ শ্রম অধিকারে গাফিলতির কারণে ২০১৩ সালে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে কিছুটা উন্নতি হলেও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওএর নির্দেশনা অনুসারে এখনো শ্রম অধিকার ও শ্রম আইন সংশোধন হয়নি। এগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে এরপর আলোচনায় গেলে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘স্থগিত থাকা জিএসপি ফেরত পাওয়ার বিষয়টি সহজ হবে না। কেননা দেশটি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার শ্রম অধিকার নিয়ে আপসহীন।’ তবে জিএসপি স্থগিতের সময় ইউএসটিআর ১৬ শর্ত দিয়েছিল। এখনো অনেক শর্ত পূরণ আংশিক এবং প্রাথমিক পর্যায়ে। এসব অসম্পূর্ণ শর্তগুলো নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে সমন্বয় করেই আলোচনার টেবিলে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে প্রায় এক হাজার ২০০ শ্রমিক নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে। এরপর দেশের পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশে ব্যাপক উন্নতি ঘটলেও গত সাত বছরেও জিএসপি সুবিধা ফিরে পায়নি বাংলাদেশ।

পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমরা আবারও শুল্কমুক্ত সুবিধা চাইতে পারি। আগে চেয়েছিলাম পাইনি। এর মধ্যে দেশের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উন্নত হয়েছে। আমরা আশা করব নতুন সরকার বিবেচনায় নেবে। পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন করে কাজ করছে।’ দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। বছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় দেশটিতে।

গত অর্থবছরেও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয় ৫৮৩ কোটি ডলারের পণ্য। চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রপ্তানি হয়েছে ২২৭ কোটি ডলারের পণ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা