kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রণোদনার এসএমই ঋণে সাড়া নেই

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৩৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রণোদনার এসএমই ঋণে সাড়া নেই

‘আপনি কি একজন সিএমএসএমই উদ্যোক্তা? কভিড-১৯-এর বিরূপ প্রভাবে আপনার প্রতিষ্ঠান কি ক্ষতির সম্মুখীন? তাহলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ পেতে আজই নিকটস্থ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার সিএমএসএমই আর্থিক প্রণোদনা’ শীর্ষক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের মাত্র ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এসংক্রান্ত সার্বিক সহায়তা দিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শাখায় স্থাপিত হেল্পডেস্ক রয়েছে আপনার পাশে। এ ঋণ পেতে হয়রানির শিকার হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রগ্রামস বিভাগের প্রবলেম সলিউশন সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

দেশের কুটির শিল্প ও এসএমই খাতে এক কোটির বেশি মানুষ কাজ করছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ খাতের উদ্যোক্তারা। কিন্তু সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ পেতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বারবার কঠোর নির্দেশনা ও সতর্ক করার পরও নানা অজুহাতে এখনো অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণেও খুব বেশি উন্নতিও হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে প্রণোদনার এসএমই ঋণের বিতরণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা তৎপরতায় সিএমএসএমই প্যাকেজের ঋণ বিতরণ বাড়ছে। যারা অনাগ্রহ দেখিয়েছে, তারাও ঋণ বিতরণে আগ্রহী হয়েছে। তবে কিছু কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, কেউ নাকি প্রণোদনা ঋণের জন্য আসছে না। আবার আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে, উদ্যোক্তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঘুরেও ঋণ পাচ্ছে না। এ কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের কেউ যাতে  আর এ ধরনের অভিযোগ করতে না পারে সে জন্য জাতীয় ও স্থানীয় মিলে প্রায় ২৮টি দৈনিকে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’ তিনি বলেন, এখন কোনো উদ্যোক্তা ঋণের জন্য যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আর তাঁকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। এ ছাড়া হয়রানি করার সুযোগও আর থাকবে না।

করোনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় বিভিন্ন খাতে এক লাখ তিন হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্যে সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল অন্যতম। গত ১৩ এপ্রিল এসংক্রান্ত তহবিল বরাদ্দের জন্য নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্যাকেজের আওতায় মাত্র চার হাজার ৮২২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ২৬ হাজার ৮৬৪টি সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান এই ঋণ পেয়েছে। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা এক হাজার ১২৪ জন আর পুরুষ ২১ হাজার ৬৪২ জন।

প্রথমে প্রণোদনার ২০ হাজার কোটি টাকাই ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কথা ভেবে পরবর্তী সময় তহবিলের ১০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনরর্থায়ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। চলতি অক্টোবরের মধ্যে এই তহবিলের ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনাগ্রহে এই তহবিলের ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।

জানা গেছে, প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে শুরুতেই ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু শুরুতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে কোনোক্রমেই গতি আসছিল না। ঋণ বিতরণ বাড়াতে গত ২১ জুন মাসিক ভিত্তির পরিবর্তে পাক্ষিক ভিত্তিতে ঋণ বিতরণের তথ্য জানাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় গত জুলাই ও আগস্টে ঋণ বিতরণের টার্গেটের সীমা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব বৈঠকের পর সিএমএসএমই খাতের ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এর পরও সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।

তাই এ মাসের শুরুতে ঋণ বিতরণে আগ্রহ না দেখানো ২৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া কম ঋণ বিতরণ করা আরো ২৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর গত ২১ অক্টোবর সিএমএমই ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়ে আরো একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা