kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি বিক্রিতে নতুন শর্ত

অনলাইন ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি বিক্রিতে নতুন শর্ত

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি বিক্রিতে নতুন শর্তারোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তা হলো- শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা গাড়ি বন্দর থেকে খালাসের পরবর্তী পাঁচ বছর বিক্রি করা যাবে না। এরপর বিক্রি করলে অবচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হারে শুল্ককর পরিশোধ করতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং হাইটেক পার্কে কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন এ আদেশ প্রযোজ্য হবে।

সম্প্রতি এনবিআর শুল্কমুক্ত গাড়ির অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে শর্ত আরোপ করে এ আদেশ জারি করেছে। ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের কথা বলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় নামিদামি গাড়ি বিদেশ থেকে এনে রমরমা বাণিজ্য করছে অনেকে। গত কয়েক বছরে এ খাতে সরকার কমপক্ষে ১১৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির পাঁচ বছর পর গাড়িটি বেজা, বেপজা বা হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ অন্য প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে গাড়িটির আমদানিসংক্রান্ত সব দলিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশসহ এনবিআরের কাছে আবেদন করতে হবে।

এনবিআর আবেদন যাচাই করে হস্তান্তরের অনুমতি দিতে পারবে। অন্যদিকে আমদানিকারক গাড়িটি বিক্রি করতে চাইলে গাড়িটি আমদানিসংক্রান্ত সব দলিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশসহ এনবিআরের কাছে বিক্রির আবেদন করতে হবে।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, এনবিআর ইনভয়েসে মূল্যের ওপর অবচয় হারের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করবে। বছর গণনার ক্ষেত্রে প্রথম নিবন্ধনের তারিখ থেকে ন্যূনতম ৩৬৫ দিন অতিক্রম করতে হবে। প্রথম বছরের জন্য ১০ শতাংশ অবচয়হার নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বছরে ২০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ৩০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ৪০ শতাংশ, পঞ্চম বছরে ৫০ শতাংশ, ষষ্ঠ বছরে ৬০ শতাংশ, সপ্তম বছরে ৭০ শতাংশ এবং অষ্টম বা তার বেশি বয়সের গাড়ির জন্য ৮০ শতাংশ অবচয়হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরদিকে হস্তান্তর বা সরাসরি বিক্রি না করে নিলামে গাড়ি বিক্রি করতে চাইলেও এনবিআরে আবেদন করতে হবে।

শুল্কমুক্ত নামি-দামি গাড়ির মধ্যে আছে বিএমডাব্লিউ, টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার স্টেশন ওয়াগন, প্রাডো টিএক্স, ডিজেলচালিত ভিএক্স, হ্যামার, পোরশে, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের গাড়ি। বিদেশ থেকে আনা এসব গাড়ি দুই থেকে চার হাজার সিসির। বিভিন্ন মডেলের এসব গাড়ির দাম এক কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত। এ ধরনের গাড়ি আমদানির শুল্ক, সম্পূরক শুল্কসহ মোট শুল্ককর পরিশোধ করতে হয় ৮৪০ শতাংশ হারে। এ শুল্ক ফাঁকি দিতেই শুল্কমুক্ত গাড়ির অবৈধ বাণিজ্য চলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা