kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, প্রণোদনার ঋণ পাননি খুলনার ২৫০০ নারী উদ্যোক্তা

কৌশিক দে, খুলনা    

২০ অক্টোবর, ২০২০ ১০:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, প্রণোদনার ঋণ পাননি খুলনার ২৫০০ নারী উদ্যোক্তা

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বারবার হোঁচট খেয়েও এঁরা থেমে যাননি। ছবি : কালের কণ্ঠ

শখ থেকে নেশা, আর নেশা থেকে পরিবারের প্রয়োজনে ব্যবসায় এসেছিলেন খুলনার নারী উদ্যোক্তা আনোয়ারা খাতুন। ‘হোম মেইড’ খাবার তৈরি ও সরবরাহ করে দিনগুলো ভালোই কাটছিল, কিন্তু করোনা সংকট অনেকটাই পথে বসিয়েছে কঠোর পরিশ্রমী এ নারীকে। তবু হাল ছাড়েননি। ঘুরে দাঁড়াতে হিমমিশ খাচ্ছেন। ব্যাংকঋণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে আশ্বাস মিললেও সহায়তা মেলেনি। ফলে অনেকটাই হতাশ এই নারী উদ্যোক্তা। আনোয়ারা বলেন, ‘তিন বছরে কোনো ব্যাংকঋণ তো পাইইনি। করোনাকালে ব্যাংক থেকে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার কথা থাকলে তাও মিলছে না। ফলে এখন টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

শুধু আনোয়ারা খাতুনই নন, খুলনার আড়াই হাজারেরও বেশি নারী উদ্যোক্তা এখন কঠিন সময় পার করছেন। করোনা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বারবার হোঁচট খাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা প্রণোদনার বিষয়টি স্বীকারও করেন না। নানা অজুহাত দেন। তাই খুলনার একজন নারী উদ্যোক্তাও প্রণোদনার ঋণ পাননি। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরী খুলনাসহ জেলায় নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। তাঁদের মধ্যে আড়াই হাজার উদ্যোক্তা বাংলাদেশ মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব নারী উদ্যোক্তা খাদ্য তৈরি, সরবরাহ, বুটিকস, সেলাই, অনলাইন বিক্রি, পার্লার, মুদ্রণ, ডেকোরেটর ও আমদানি-রপ্তানি কাজের সঙ্গে জড়িত। নিজস্ব ও পারিবারিক অর্থায়নে তাঁরা এসব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এসব কাজের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের কয়েক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কোনো ধরনের সহায়তা তাঁরা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে করোনাকালে এসব ব্যবসার অধিকাংশই সংকটে পড়েছে।

নগরীর বয়রা এলাকার আঁচল কারুশিল্পের নাসিমা হোসেন বলেন, ‘এখনো ব্যবসা নারীবান্ধব হয়নি। আমাদের ঘরে-বাইরে লড়াই করতে হচ্ছে। করোনার কারণে বিগত ঈদগুলোতে অনেক পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে। শ্রমিকদের কাজ নেই। পুঁজি শেষ। ফলে সংকট তৈরি হলেও সহায়তা পাচ্ছি না।’

ফ্যাশন কুটির হাউসের তারানা তাবাসসুম শোভা বলেন, ‘ব্যবসা মানে ঝুঁকি জেনেই ব্যবসা করছি। করোনাকালে অনেক সময় পণ্য বিক্রি হয়েছে কিন্তু সরবরাহ করতে পারিনি। ফলে সংকট তৈরি হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।’

রূপা রান্নাঘরের রুমানা রূপা বলেন, ‘করোনার মধ্যে সব কিছুর দাম বেড়েছে। আবার ক্রেতা কমেছে। তাই অনেক নতুন মেন্যু তৈরি করতে হচ্ছে। এখন অর্থ সংকটের পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে হচ্ছে। টিকে থাকার জন্য হাজারো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা নেই।’

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডাব্লিউসিসিআই) খুলনা বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শীলুও জানালেন নারী উদ্যোক্তাদের কষ্টের কথা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতা নিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনাসহ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসছে না। আমরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু সুফল মিলছে না। উল্টো কঠিন কঠিন শর্ত দিচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা শুধু পুঁজি হারাচ্ছেন না, পথে বসছেন।’

শামীমা সুলতানা আরো বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নারী উদ্যোক্তাদেরও বাঁচাতে হবে। খুলনার আড়াই হাজার নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন। যাঁদের ওপর হাজার হাজার পরিবার নির্ভরশীল। এভাবে চলতে থাকলে এসব পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। তাঁদের বাঁচাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা