kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

পিপলস লিজিং

টাকা ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান আমানতকারীরা

পুনর্গঠন ও জড়িতদের শাস্তি দাবি

অনলাইন ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাকা ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান আমানতকারীরা

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীরা মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করে। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

জমা টাকা দ্রুত ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন অবসায়ন হওয়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের ছয় হাজার ব্যক্তি আমানতকারী।

গতকাল সোমবার মতিঝিলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় সিটি সেন্টারের সামনে এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে কয়েক হাজার ব্যক্তি আমানতকারী অংশ নেন। বক্তব্য দেন কাউন্সিলের কনভেনর ও প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক, সেক্রেটারি জেনারেল রানা ঘোষ, জয়েন্ট কনভেনার ও সমন্বয়কারী সামিয়া বিনতে মাহবুব প্রমুখ।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের বাঁচানোর পথ সুগম করার জন্য আপনার একান্ত সাহায্য আমরা কামনা করছি। আমরা আশাবাদী আপনার নেওয়া যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, যা আমাদের মতো অসহায় অমানতকারীদের জীবন বঁচাবে। দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।’

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এখনই পিপলস লিজিং অবসায়ন না করে সরকার যেভাবে ফারমার্স ব্যাংককে পদ্মা ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করেছে এবং বিসিআই ব্যাংককে অবসায়ন না করে ইস্টার্ন ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করে গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনি পিপলস লিজিংকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে চালু করে দ্রুত গ্রাহকদের আমানত ফেরত প্রদান করে সরকার তার নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। এতে নিরীহ আমানতকারীরাও তাঁদের আমানত ফেরত পাবেন। এ ছাড়া অবিলম্বে পিপলস লিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করতে হবে। বিশেষ করে, দোষী ব্যক্তিরা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য তাদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, তাদের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।

মানববন্ধনে আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘সব রকম নিয়ম মেনেই আমরা টাকা রেখেছিলাম প্রতিষ্ঠানটিতে। কিন্তু আমাদের ঠকিয়ে নিয়মের অবমাননা করা হয়েছে। আমরা দেড় বছর যাবৎ পাওনা টাকার জন্য ঘুরছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে আমানতকারীদের। যাঁরা পেনশনের টাকার মুনাফা দিয়ে সংসার চালাতেন, তাঁরা এখন অসহায়। চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন অনেকে। এই অবস্থায় আমরা যেকোনো মূল্যে টাকা ফেরত চাই।’

সামিয়া বিনতে মাহবুব বলেন, ‘আমরা এই প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন নয়, পুনর্গঠন চাই। কারণ অবসায়ন হলে টাকা ফেরত পাবেন না সাধারণ আমানতকারীরা। স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে দ্রুত আমাদের টাকা ফেরত দেওয়া হোক।’

আরেক আমানতকারী (মুক্তিযোদ্ধা) বলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর সরকারের কাছে মরণোত্তর গার্ড অব অনার চাই না। আমার টাকা ফেরত চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই আবেদন, আমাদের সঞ্চিত টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক।’

মানববন্ধন শেষে আমানতকারীদের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করে। সংক্ষিপ্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আমানতকারীদের টাকা দ্রুত ফেরতের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা